সংবাদদাতা, কালনা: ভাগীরথীর জল বাড়ায় বন্যার আশঙ্কায় কালনা, নাদনঘাট ও পূর্বস্থলীর নদীপাড়ের বাসিন্দারা। এদিকে, ভাগীরথী সহ খড়ি, বেহুলা, গাঙ্গুর, বাঁকা নদী ও ডিভিসি ক্যানালের জল বাড়তে থাকায় মন্তেশ্বর ওনাদনঘাট থানা এলাকার নিচু জমিতে জল ঢুকতে শুরু করেছে। বুধবার নাদনঘাট ও মন্তেশ্বর থানা এলাকার প্লাবিত এমন নিচু এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল। সঙ্গে ছিলেন এসডিপিও রাকেশ চৌধুরী, বিডিও সঞ্জয় দাস, আইসি বিপ্লব পতি সহ অন্য আধিকারিকরা।
কালনা মহকুমার পূর্বস্থলী, নাদনঘাটের এক দিকে বইছে ভাগীরথী। এছাড়াও মন্তেশ্বর ব্লকজুড়ে রয়েছে খড়ি, বাঁকানদী ও ডিভিসির ক্যানাল। এবারের বর্ষায় ধারাবাহিক বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদীতে জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ভাঙনের কবলে পড়েছে নাদনঘাট থানার নসরৎপুরের কিশোরীগঞ্জ গ্রাম। একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে জলস্ফীতিতে বন্যার আশঙ্কায় ত্রস্ত নদীপাড়ের বাসিন্দারা। নাদনঘাট থানার জালুইডাঙা, চর গোয়ালপাড়া, সিদ্ধেপাড়া সহ কালনা-১ ব্লকের ধাত্রীগ্রামের কালীনগর, উদয়গঞ্জে ভাগীরথীর জলস্ফীতিতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে কিশোরীগঞ্জে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলাশাসক আয়েষা রানি এ। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল। কদিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে খড়ি, বেহুলা নদীতে জল বাড়তে থাকায় ব্যাপক পরিমাণে কচুরিপানা ঢুকছে ভাগীরথীতে। ফলে নদীপথে নৌকা পারাপার নিয়ে চিন্তিত মাঝিরা। বুধবার মহকুমা শাসক মন্তেশ্বরের মাঝেরগ্রাম, সিহি প্রভৃতি নিচু এলাকা পরিদর্শন করেন। এদিকে, নাদনঘাট থানার দোগাছিয়ার নিচু এলাকায় কয়েকটি কাঁচা বাড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের কারণে ১১টি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মহকুমা শাসক সহ অন্যান্যরা এদিন সেই এলাকাও পরিদর্শন করেন।নদীপাড়ের বাসিন্দা আনন্দকুমার হালদার, অশোক মাঝিরা বলেন, নদীর জল বেড়েছে। তবে, যেভাবে বৃষ্টি চলছে তাতে আমরা খুবই চিন্তিত।
কালনা ফেরিঘাটের ম্যানেজার জয়গোপাল ভট্টাচার্য বলেন, ভাগীরথী নদীর জল অনেকটাই বেড়েছে। নদীতে প্রচুর কচুরিপানা আসছে। লঞ্চ করে পারাপারে এখনও অসুবিধা হচ্ছে না। এর চেয়ে বেশি কচুরিপানা এলে সমস্যা হতে পারে।
মহকুমা শাসক বলেন, একটানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদ-নদীর জল বাড়ছে। মন্তেশ্বরের মাঝেরগ্রামে দু’টি বাড়িতে জল ঢুকেছে। তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে আনা হয়েছে। দোগাছিয়ায় কয়েকটি কাঁচা বাড়িতে বসবাসে ঝুঁকি থাকায় ১১টি পরিবারকে স্থানীয় একটি স্কুলে সরানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র