নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘নদীতে জল বাড়ছে। আমি ভেসে যাচ্ছি। তোমরা পালাও’—শনিবার রাতে মোবাইল ফোনে সুখিয়াপোখরির হোমস্টের সহকর্মীদের এমন বার্তা দিয়ে নিখোঁজ হন ডায়মন্ডহারবারের হিমাদ্রি পুরকাইত। সংশ্লিষ্ট হোমস্টের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পেয়েছে প্রশাসন। তারা হিমাদ্রির খোঁজে স্থানীয় বালাসন নদীতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। দার্জিলিংয়ের মহকুমাশাসক রিচার্ড লেপচা বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই যুবক হোমস্টেতে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। বিপর্যয়ের রাত থেকে তিনি নিখোঁজ। তাঁর খোঁজ চলছে। এজন্য নদীতে ডুবুরি নামানো হয়েছে। এমনকী, আর্থ মুভার দিয়ে নদীর পাড়ের বালি, পলিও সরিয়েও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।
সুখিয়াপোখরির বালাসন নদীর পাড়ে ওই হোমস্টে অবস্থিত। প্রশাসন সূত্রের খবর, হোমস্টের মালিকের সঙ্গে হিমাদ্রির পূর্ব পরিচয় ছিল। প্রায় এক মাস আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী অতিথি হিসেবে হোমস্টেতে আসেন। সেখানে তিনি স্বেচ্ছাসেবী হিসেব কাজও করছিলেন। ৪ অক্টোবর রাতে হোমস্টের কাজ শেষ করে তিনি নদীর পাড়ে যান। সেখান থেকে ফোনে নদীতে জলস্ফীতির খবর হোমস্টের কর্মীদের জানান হিমাদ্রি। এরপর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, তিনদিন অতিক্রান্ত। ছেলের খোঁজ না মেলায় উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ বাড়ছে পুরকাইত পরিবারে। কোথায় এবং কী অবস্থায় রয়েছে ছেলে, তা নিয়ে চোখের পলক এক করতে পারছেন না বাড়ির সদস্যরা। মৌমিতা চক্রবর্তী নামে হিমাদ্রির এক দিদি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, ওই জায়গায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। সন্ধ্যা নেমে আসায় আর এগোনো যায়নি। কিন্তু মঙ্গলবারও হিমাদ্রির খবর পাওয়া যায়নি। এদিন সকালে ওই এলাকায় একটি জামা পাওয়া যায়। সেটি হিমাদ্রির কিনা, স্পষ্ট নয়। হিমাদ্রির নিখোঁজের খবর নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁর বন্ধুবান্ধবরাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন তাঁরা। কেউ কোনও খবর পেলে, তৎক্ষণাৎ যাতে সেটা জানানো হয়, সেই
আবেদন করা হয়েছে। এদিকে, সেলফি তুলতে গিয়ে বিজনবাড়ির ছোট রঙ্গিত নদীতে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন উপেন্দ্রকুমার রাম (২৮)। দার্জিলিং পুলবাজারে তাঁর বাড়ি। দু’দিন ধরে
ছোট রঙ্গিত নদীতে তল্লাশি চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে প্রশাসন। দুর্যোগের মুহূর্তে সেলফি তুলতে গিয়ে ওই যুবক নদীতে তলিয়ে যান বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।