সংবাদদাতা, বালুরঘাট: ফেব্রুয়ারিতে আত্রেয়ীতে জল না আসতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল ড্যামের একাংশ। ওই ড্যাম বা বাঁধের একাংশ মেরামত শুরু হতে না হতেই দ্বিতীয়বার ভেঙে পড়ল মূল অংশ। মঙ্গলবার ভোররাতে নদী বরাবর ওই ড্যামের একেবারে মূল অংশ ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। এনিয়ে রাতেই ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। সেচদপ্তর সূত্রে খবর, ৩২ কোটি টাকা ব্যয়েএই ড্যাম নির্মিত হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার বছর না ঘুরতেই ফেব্রুয়ারিতে ভেঙে যায়। এরপর ৮৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল। আরও ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় দু’পাড়ে প্রোটেকশনের কাজ শুরু হয়েছিল। সোমবার রাতে হঠাৎ নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল অংশ ভেঙে যায়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার এলাকায় আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ৩৩-৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ড্যাম তৈরি হয়েছে। এই বাঁধ করতে এত টাকা লাগে না। তৃণমূলের নেতারা কাটমানি খেয়ে সেচদপ্তরকে দিয়ে দুর্বল লোহার রড ব্যবহার করে এই বাঁধ তৈরি করেছিল। ফলে সামান্য জলস্তর বাড়তেই দ্বিতীয়বার ভেঙেছে। স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছে। রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, এত তাড়াতাড়ি কীভাবে ভেঙে গেল, তা দেখা দরকার। হয়ত ভালোভাবে কাজটি হয়নি, ত্রুটি ছিল। আমি সেচদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব। বাঁধটি দ্রুত মেরামত সহ তদন্ত করার জন্য প্রশাসনকে বলব। বাংলাদেশ থেকে জল ছেড়েছে কি না সেটাও দেখতে হবে। সুকান্তবাবুর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাঁধটা তো আর তৃণমূলের নেতারা করেননি, এটা ইঞ্জিনিয়াররা ও সংস্থা করেছে। তাহলে এধরনের অভিযোগ উঠছে কেন?
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাত থেকেই নদীর জলস্তর বাড়তে থাকে। রাত ৩টা থেকেই ওই ড্যামে বিকট শব্দ হতে থাকে। এরপরেই বাঁধ ভেঙে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বালুরঘাট সদর মহকুমা শাসক সুব্রত বর্মন, পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র, সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্ত ভৌমিক সহ অন্যান্যরা। তবে এনিয়ে সেচদপ্তরের কোনও আধিকারিক মন্তব্য করতে চাননি। মহকুমা শাসক পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আত্রেয়ীর ভাঙা বাঁধ পরিদর্শনে সুকান্ত মজুমদার। - নিজস্ব চিত্র।