Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ডের গালুডি থেকে ছাড়া হচ্ছে ২ লক্ষ কিউসেক হারে জল, ফুঁসছে সুবর্ণরেখা, ভাসল বহু গ্রাম গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকে দুর্ভোগ

শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের গালুডি ড্যাম থেকে ২ লক্ষ ৪ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডের গালুডি থেকে ছাড়া হচ্ছে ২ লক্ষ কিউসেক হারে জল, ফুঁসছে সুবর্ণরেখা, ভাসল বহু গ্রাম   গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকে দুর্ভোগ
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ফের ফুঁসতে শুরু করেছে সুবর্ণরেখা নদী। শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের গালুডি ড্যাম থেকে ২ লক্ষ ৪ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। জলস্রোতে গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের মালিঞ্চা, খড়পড়িয়া, ছাতিনা গ্ৰামের নদী তীরবর্তী এলাকার পাড়ে ধস নামা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মালিঞ্চা গ্ৰামের পোস্টঅফিস, মন্দির, বসতবাড়ি, দোকান নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। তিনটি গ্ৰামের দু’হাজার বাসিন্দা এখন ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। 

Advertisement

গালুডি ড্যাম থেকে বারবার জল ছাড়ার জেরে সুবর্ণরেখা নদী ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। ঘূর্ণি স্রোত নদীর পাড় ধসিয়ে দিচ্ছে। শনিবার রাতে গালুডি ড্যাম থেকে জল ছাড়ার জেরে মালিঞ্চা, ছাতিনা, খড়পড়িয়া গ্ৰামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মালিঞ্চা গ্ৰামের নদী তীরবর্তী মন্দির, পোস্টঅফিস, বাড়ি, দোকানঘর নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। কংক্রিটের উঁচু রাস্তা এতদিন বাঁধ হিসেবে বসতি এলাকাকে রক্ষা করছিল। শনিবার কংক্রিটের রাস্তার নীচের মাটি ধসে ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। যেকোনও সময় ওই ফাঁকা অংশ দিয়ে নদীর জল ঢুকে তিনটি গ্ৰামের বসতি এলাকা ও চাষের জমি জলের তলায় চলে যাবে। আতঙ্কিত বাসিন্দরা স্থানীয় আশ্রয় শিবিরে রাত কাটাচ্ছেন। 
মাসখানেক আগে সেচমন্ত্রী মালিঞ্চা গ্ৰাম পরিদর্শনে এসেছিলেন। গ্ৰামবাসীদের সামনেই রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। জেলা সেচদপ্তরের তরফে বর্ষার পরে কাজ শুরু করার কথা জানানো হয়। গালুডি ড্যাম থেকে ক্রমাগত জল ছাড়ার জেরে গ্ৰামগুলি আর বাসযোগ্য থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ব্লক প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ধসে যাওয়া কংক্রিটের রাস্তা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। নদীতে আবার জল বাড়লে বাসিন্দাদের দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও সেরে রাখা হয়েছে। 
মালিঞ্চা গ্ৰামের বাসিন্দা মহাদেব দণ্ডপাট বলেন, নদী গত ছ’মাসে গ্ৰামের  অনেক কাছে চলে এসেছে। শনিবার রাতে আমার একতলা বাড়ি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। অনেক কষ্ট করে পাকা বাড়ি তৈরি করেছিলাম। কিছুটা দূরেই মাটির বাড়ি রয়েছে। সেটাও আর কদিন থাকবে জানি না। অপর বাসিন্দা সরোজ খামরি বলেন, বিশ্বকর্মার মন্দির নদী গর্ভে চলে গিয়েছে। এবার পুজো হবে কিনা জানি না। সুবল খামরি বলেন, কিছুদিন আগে সেচমন্ত্রী আমাদের গ্ৰামের অবস্থান দেখে গিয়েছিলেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু, কাজ শুরু হয়নি। কংক্রিটের রাস্তা পুরো ধসে গেলে তিনটি গ্ৰামে দু’হাজার বাসিন্দা আশ্রয়হী হয়ে পড়বে। 
গোপীবল্লভপুর-২ বিডিও নীলোৎপল চক্রবর্তী বলেন, এদিন জলস্তর কিছুটা নেমেছে। এই সপ্তাহের মধ্যে সেচদপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক নজরদারি রয়েছে। জেলা সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মালিঞ্চা এলাকার নদীপাড় ভাঙন রোধে প্রাথমিক পরিকল্পনা করা গিয়েছে। বর্ষার পর স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ শুরু হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ