সংবাদদাতা, বেলদা: নারায়ণগড় ব্লকের তুতরাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের আমডিহা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অল্প বৃষ্টিতেই জমে যায় জল। ক্লাসের ভিতরে জল জমে যায়। পড়ুয়ারা জুতো হাতে নিয়ে স্কুলে ঢোকে। জল থইথই ক্লাস রুমেই চলে পড়াশোনা। স্বাধীনতার আগে তৈরি হওয়া এই স্কুলের সংস্কারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
১৯৩৮ সালে শিক্ষার প্রসারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আমডিহা প্রাথমিক বিদ্যালয়। বেলদা থানার অন্তর্গত এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা ৬৬। ১৯৮০ সাল নাগাদ মাটির ঘরের পরিবর্তে তৈরি হয়েছিল পাকা স্কুল বিল্ডিং। সেই পাকা ভবনেই বর্তমানে বারান্দা থেকে ক্লাসরুম ডুবে থাকছে জলে। একটু বেশি বৃষ্টি হলে ক্লাস রুমে জল জমে যায়। চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া রামতনু দাস, নন্দিনী পড়্যা জানাল, বর্ষায় তাদের স্কুল আসতে ইচ্ছে করে না। বেশিরভাগ সময় পা জলে ডুবিয়ে থাকতে হয়। জুতো পরতে পারে না। বৃষ্টি বেশি হলে ক্লাস রুমে বেঞ্চে পা তুলে বসতে হয়। এক পড়ুয়ার অভিভাবক বলেন, স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুল বিল্ডিংয়ের যা অবস্থা, তাতে বর্ষার সময় ছেলেদের পাঠাতে ভয় হয়। জলে ভিজে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে তারা। ভেঙেচুরে গিয়েছে দরজা জানলা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অনির্বাণ দাস কানুনগো বলেন, বহু আগে তৈরি স্কুল বিল্ডিংটির তুলনায় বর্তমানে রাস্তা উঁচু হয়ে গিয়েছে। জল সঠিক ভাবে নিষ্কাশন না হওয়ায় রাস্তার তুলনায় নিচু স্কুল বিল্ডিংয়ে স্বল্প বৃষ্টিতেই জমে যাচ্ছে জল। মেঝে উঁচু করলে ও জল নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করলে এর সমাধান সম্ভব। আমরা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
হেমচন্দ্র সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক কাঞ্চন মণ্ডল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। যাতে দ্রুত সমাধান করা যায় তার জন্য স্কুল শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে কথা বলা হবে। নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি আমার গোচরে ছিল না। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।-নিজস্ব চিত্র