নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দৃশ্য-১: সকাল ৯টা। শহরের এসপি মুখোপাধ্যায় রোড। সেখানেও রাস্তার ধারে পানীয় জলের কলের সামনে বাসিন্দাদের লম্বা লাইন। এখানেও লাইন দেওয়া নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে। সেই সময় স্থানীয় কাউন্সিলার তথা পুরসভার বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন এলাকায় পৌঁছে তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
দৃশ্য-২: সকাল ১০টা। হায়দরপাড়া মেইন রোড। রাস্তার ধারে পানীয় জলের স্ট্যান্ড পোস্টে জলের জন্য সেখানে পুরবাসীর লম্বা লাইন। কারও হাতে জলের বোতল, আবার কারও হাতে জারিকেন। জল আগে ভরা নিয়ে একাংশের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এক-দু’কথায় কয়েকজন বচসায় জড়িয়ে পড়েন। উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়! স্থানীয় কিছু বাসিন্দার তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সংশ্লিষ্ট দু’টি ঘটনা উদাহরণ মাত্র। বুধবার শহরের ৪৭টি ওয়ার্ডের একাধিক জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও পুরসভার ট্যাঙ্কের সামনে লাইন দেওয়া নিয়ে গোলমাল হয়। আবার কেউ কেউ জলের পাত্র নিয়ে এক ওয়ার্ড থেকে আরএক ওয়ার্ড চক্কর কাটেন। আবার কেউ বাইরে থেকে বেশি দামে জল কেনেন।
গোটা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, তিন বছর ধরে পুরসভার ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বর্ষা নামার আগেই পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। কারণ তিস্তার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে পুরসভা অবহিত। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। এজন্যই শহরে পানীয় জলের হাহাকার দেখা দিয়েছে।
এমন আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শিলিগুড়ির পানীয় জলসঙ্কট সম্পর্কে খোঁজখবর নেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তিনি মেয়র গৌতম দেবের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেচমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এখানকার জল সমস্যা খতিয়ে দেখছি। বৈঠকে এ বিষয়ে ও তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন মেয়র। বিষয়টি নিয়ে ৪৫ মিনিট আলোচনা হয়েছে। আমরা এই সমস্যা মেটানোর পথ খুঁজে পেয়েছি। তা মেটাবই।
তিনদিন আগে সিকিমে ব্যাপক বৃষ্টি হয়। যারজেরে সিকিমের বালি, পলি, গাছের গুঁড়ি তিস্তার জলের সঙ্গে সমতলে নেমে আসে। তিস্তার সেই কাদাজলের জেরেই শিলিগুড়ির শহরের জল প্রকল্প কার্যত বিপর্যস্ত। মেয়র বলেন, সিকিমের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সমস্যা মেটাতে তৎপর রয়েছি। ইতিমধ্যে বিকল্প ইনটেক ওয়েল তৈরি করেছি। পন্ড খনন করছি। মেগা জল প্রকল্পের কাজও চলছে জোরকদমে।
পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য দুলাল দত্ত অবশ্য বলেন, বিগত তিনদিনের তুলনায় এদিন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। বাড়ি বাড়ি নলবাহিত পরিস্রুত জল পাঠানো সম্ভব হয়েছে। সেইসঙ্গে ট্যাঙ্কও পাঠানো হয়েছে। সিকিমের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র।