সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: কাঁসাই নদী জল প্রকল্পের প্রধান পাইপ ফেটে যাওয়ায় পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে খড়্গপুর শহরে। দু’দিন ধরে শহরে এই প্রকল্পের জল সরবরাহ হচ্ছে না। কিছু এলাকায় স্থানীয় ডিপ টিউবওয়েল থাকায় বাসিন্দারা জল পাচ্ছেন। সেখানে কিছুটা দুর্ভোগ কম হলেও বাকি ওয়ার্ডের পরিস্থিতি খুবই করুণ। বাসিন্দারা এনিয়ে ক্ষুব্ধ। পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বলেন, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক জায়গায় মেরামত করার পর আবার এক জায়গায় ফাটল পাওয়া গিয়েছে। আশা করছি, আজ, বুধবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এদিকে, পাইপ ফেটে জল বেরিয়ে যাওয়ায় শহর লাগোয়া গ্রামীণের কেশপাল এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। একটি বাড়িরও ক্ষতি হয়েছে। সোমবার ফাটল মেরামতের কাজ করতে গেলে পুরসভার কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। বেশ কিছুক্ষণ কাজ বন্ধ থাকে। পরে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ভাইস চেয়ারম্যান তৈমুর আলি খান বলেন, পুরসভার তরফে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। জলের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার বলেন, স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং ডেকে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
শহরের খড়িদা থেকে মালঞ্চ এলাকায় প্রায় চারদিন ধরে পর্যাপ্ত জল সরবরাহ হচ্ছে না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। ফলে ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৬, ১৭ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু এলাকায় খাবার জল পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার নমিতা চৌধুরী বলেন, পর্যাপ্ত জল পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার এলাকার মাহিলারা দলীয় অফিসে এসে ক্ষোভ জানান। দলের নেতা দেবাশিস চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের বদনাম করার জন্য কোথাও একটা অন্তর্ঘাত হচ্ছে। পুরসভার বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। প্রসঙ্গত, কাঁসাই নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে জল উত্তোলন করে তা পাইপ লাইনের মাধ্যেমে বিভিন্ন জলাধারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে এলাকায় জল সরবরাহ করা হয়। মেন রাইজিং পাইপ ফেটে যাওয়ায় কোথাও জল আসছে না। তৃণমূল কাউন্সিলার রীতা পান্ডে বলেন, ঝাপেটাপুর এলাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের জল বাঁচিয়ে রাখতে হচ্ছে। আর এক তৃণমূল কাউন্সিলার অপূর্ব ঘোষ বলেন, দু’দিন ধরে তালবাগিচা এলাকায় জল নেই। বাসিন্দাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে।
শহরের বাসিন্দা শেখ সাফরাজ বলেন, মাঝে-মাঝেই জল সমস্যা দেখা দেয়। পুরসভার গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টা দেখা উচিত। আর এক বাসিন্দা রীতা সেন বলেন, স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। একবেলা জল আসছে, তো আর একবেলা সরবরাহ হচ্ছে না।