গণেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান: বর্ধমান শহরের রাস্তার বেহাল অবস্থা নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগের শেষ নেই। অম্রুত প্রকল্পে পাইপলাইন বসানোর সময় থেকেই ভোগান্তি শুরু। পাইপ লাইন বসানোর জন্য রাস্তার দু’পাশ খোঁড়া হয়। বাড়িতে পাইপ লাইন পৌঁছনোর জন্য রাস্তার মাঝামাঝিও খোঁড়া হয়। তারপর থেকে শহরের বেশিরভাগ রাস্তা সংস্কার করা হয়নি। কিছু জায়গায় জোড়াতাপ্পি দেওয়া হয়েছে। শহরের কয়েকটি জায়গায় পেভার ব্লকের রাস্তাও তৈরি হয়েছে। কিন্তু, বেশিরভাগ জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। জল, কাদা পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। যদিও নানা অছিলায় পুরসভা রাস্তার সংস্কার এড়িয়েছে। কখনও পাইপ লাইন বসানো সম্পূর্ণ হয়নি বলে, আবার কখনও বর্ষার কথা বলে রাস্তা সংস্কার করেনি পুরসভা। যার জেরে পুরসভার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ চরমে উঠেছে।
বর্ধমান শহরের-১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর মোড় থেকে হাইস্কুলে আসার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে আছে। এই ওয়ার্ডেরই গোলাপবাগ মোড় থেকে কেশবগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় আসার রাস্তাটিও খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। গোলাপবাগ মোড় থেকে শরৎপল্লি যাওয়ার রাস্তার কিছুটা অংশ পুরসভার অধীন। পুরো রাস্তার অবস্থাই বেহাল। ১ নম্বর ওয়ার্ডেরই বাদশাহি রোডের কিছু জায়গায় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বোরহাট থেকে কার্জন গেট পর্যন্ত শহরের ভিতর দিয়ে যাওয়া বিসি রোডের অবস্থাও খুব খারাপ।
শহরের লাইফলাইন বলে পরিচিত বিসি রোডের বেহাল অবস্থা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রচুর মানুষ অফিস, কাছারিতে যাতায়াত করে। রাস্তার পাশে রয়েছে ব্যাঙ্ক, স্কুল ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। রয়েছে থানাও। এহেন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল অবস্থায় ক্ষুব্ধ শহরবাসী। রাস্তার মাঝখানে থাকা ডিভাইডার ভাঙা হয়েছে। অথচ রাস্তা ঠিক করা হয়নি। শহরের খোসবাগান এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ডাক্তারপাড়া হিসেবে পরিচিত। এই রাস্তা দিয়ে বহু মানুষ হাসপাতালে যাতায়াত করে। আরবি ঘোষ রোড, জেএন রায় রোডের অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় পিচের আস্তরণ উঠে গিয়েছে। পাথর বেরিয়ে পড়েছে। খোসবাগানের রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।
বাবুরবাগ কালীতলা থেকে বাহির সর্বমঙ্গলাপাড়া রাস্তাটির অবস্থা খুব খারাপ। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড়বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি পড়লেই বেশ কয়েকদিন গর্তে জল জমে থাকে। বাথানপাড়া রোডটির অবস্থাও তথইবচ। সুভাষপল্লি রোডে পেভার ব্লক বসানো হয়েছে। কিন্তু, সঠিকভাবে কাজ না হওয়ায় রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির জল দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তার পাশের বেশ কয়েকটি গলিতে দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকে। বর্ধমান স্টেশন থেকে জেলখানা মোড় হয়ে তেঁতুলতলা বাজারে যাওয়ার রাস্তাটিও অত্যন্ত খারাপ। রাস্তাটি খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। বড়-বড় গর্ত হয়ে রয়েছে।
শহরের নার্স কোয়ার্টার মোড়ের রাস্তাটিও অত্যন্ত খারাপ। তেজগঞ্জ থেকে আলমগঞ্জ যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থাও খুব খারাপ। বংপুর মোড় থেকে সর্বমঙ্গলাবাড়িতে আসার রাস্তাটির অবস্থাও খুব খারাপ। পুরসভার এক কাউন্সিলার বলেন, কর্তাদের সদিচ্ছার অভাবেই শহরের রাস্তার এই বেহাল অবস্থা। রাস্তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। অম্রুত প্রকল্পে রাস্তা সারানোর টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু, সেই টাকা দিয়ে শহরের কয়েকটি জায়গায় পেভার ব্লকের রাস্তা তৈরি হয়েছে। অর্থাভাবের কারণেই এতদিন রাস্তা সারানো যায়নি। বারবার বলার পরও এনিয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, বৃষ্টি কমলেই রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হবে। (চলবে)-নিজস্ব চিত্র