নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: টানা বৃষ্টিতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। একনাগাড়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে শিল্পাঞ্চলের জাতীয় ও রাজ্য সড়ক থেকে শুরু করে পুরসভার বিভিন্ন রাস্তার গর্তে জল জমে গিয়েছে। সেই গর্তের গভীরতা আঁচ করতে না পেরে প্রায়ই বাইক চালকরা দুর্ঘটনাগ্রস্ত হচ্ছেন। বড় গাড়ির চাকা গর্তে আটকে যানজট দেখা দিচ্ছে। পুর কর্তৃপক্ষ রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে।
চুরুলিয়ায় বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের জন্মভিটেকে সাজাতে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হয়েছে। পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে কবির বসতভিটে নতুন করে গড়া হবে। কিন্তু চুরুলিয়া যাওয়ার রাস্তা পিচ উঠে বেহাল। কিছুদিন আগেই এলাকার মানুষ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। তাই পুলিসি তৎপরতায় মোরাম দিয়ে মেরামতের চেষ্টা চলছে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টি ও ভারী গাড়ি যাতায়াতের ফলে তা যে বেশিদিন টিকবে না-তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসানসোল-পুরুলিয়া রাজ্য সড়কের অবস্থা আরও খারাপ। কুলটি থানার নিয়ামতপুর থেকে দিসেরগড় পর্যন্ত রাস্তাটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার মধ্যে পড়ে। নিয়ামতপুর মোড়, রাধানগর মোড় থেকে দিসেরগড় পোস্ট অফিস মোড় অবধি রাস্তা খানাখন্দে ভরেছে। বড় বড় গাড়ি রাজ্য সড়কে বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে মানুষ যানজটে নাকাল হচ্ছেন। জেলার একমাত্র পর্যটনস্থল কল্যাণেশ্বরী মন্দির ও তার পাশে থাকা মাইথন। ১৯নম্বর জাতীয় সড়কের ডুবুরডিহি চেকপোস্ট থেকে মাইথন যাওয়ার রাস্তাটি বেহাল দশায় রয়েছে। কুলটি নিউ রোড, নিয়ামতপুর নিউ রোডও বেহাল। ১৯নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন সার্ভিস রোড পুরো ভেঙে গিয়েছে। ইস্কোর বাইপাস রাস্তার করুণ দশা নিয়ে ইস্কো কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন আসানসোল পুরসভার একাধিক কাউন্সিলার। শিল্পাঞ্চলের এসমস্ত বেহাল সড়ক নিয়ে বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, শাসকদলের নেতারা কাটমানি খেয়েছে বলেই রাস্তাঘাটের এমন দশা। আসানসোল পুরসভার মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, বৃষ্টি বন্ধ হলেই রাস্তা সংস্কার শুরু হবে।
• নিজস্ব চিত্র