Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান, পাণ্ডবেশ্বরের ইরানিপাড়ায় এবার স্থগিত ইদের উৎসব, উৎকণ্ঠা সবার

একের পর এক বোমা, মিশাইল আছড়ে পড়ছে ইরানে। তেহেরান সহ ইরানের একাধিক প্রান্তে ভেঙে পড়ছে বহুতল

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান, পাণ্ডবেশ্বরের ইরানিপাড়ায় এবার স্থগিত ইদের উৎসব, উৎকণ্ঠা সবার
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: একের পর এক বোমা, মিশাইল আছড়ে পড়ছে ইরানে। তেহেরান সহ ইরানের একাধিক প্রান্তে ভেঙে পড়ছে বহুতল। প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ ‌‌ইরানিদের। দেশের মানুষের এমন অসহায় অবস্থায় শোকের ছায়া পাণ্ডবেশ্বরের ইরানি পাড়ায়। বহু দশক ধরে পাণ্ডবেশ্বরে বসবাস করছে শতাধিক ইরানি পরিবার। তাদের পাড়ায় সরকারি সব সুবিধাও পৌঁছেছে। রমজান মাসে তাদের ধর্মগুরু আয়াতুল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুতে রীতিমতো ৪০ দিনের শোক পালন করছেন তাঁরা। পাড়ার মোড়ে লাগানো হয়েছে কালো পতাকা। ঈদের আনন্দ ফিকে, উদ্বেগে বয়স্ক থেকে যুবক যুবতীরাও।

Advertisement

বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্য করতে এসে ভারতে থেকে গিয়েছে বহু ‌ইরানি পরিবার। একসময় ইরানের বিভিন্ন খাবার সহ নানা ধরনের ব‌্যবসা করতে তাঁরা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কেট ভারতে আসতেন। অনেকে ফিরে গেলেও ভারতের সংস্কৃতিকে আপন করে অনেকে এদেশেই থেকে গিয়েছেন। আগ্রা থেকে দিল্লি এমনকি বাংলার মুশির্দাবাদেও বহু ইরানি পরিবার রয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বরে বহু ইরানি মানুষ রয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা চশমা, বিভিন্ন গ্রহরত্নের কাজ করছেন। বহু দশক আগে তাঁরা ইরান ছেড়ে চলে এলেও দেশের প্রতি টান এখনও অক্ষুণ্ণ। তাই প্রতি মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা, ইজরায়েলের যুদ্ধের খবরাখবর নিচ্ছেন তাঁরা। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু আয়াতুল্লা খামেনেইকে নিজেদের ধর্মগুরু হিসেবেই মানে এখানকার পরিবারগুলি। যেদিন খা঩মেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয় সেদিন শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিল পুরো এলাকা। তাঁর মৃত্যুর দিন থেকে ৪০দিন শোক পালন হচ্ছে এলাকায়। ইরানের উপর এভাবে আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তাঁরা। ওই এলাকার বাসিন্দা আমজাদ আলি বলেন, এখানে আমাদের এলাকায় জল আলো বিদ্যুৎ বাসস্থান সবকিছুর ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যেভাবে আমাদের দেশের উপর আক্রমণ হচ্ছে তা মেনে নিতে পারছি না। আমেরিকার দাসত্ব ইরান মানেনি বলে এই আক্রমণ। বৃদ্ধ গোলাম হোসেন আলি বলেন, আমি জন্ম থেকে এখানেই আছি। আমাদের ধর্মগুরু ছিলেন খামেনেই। তাঁকে অন্যায়ভাবে খুন করা হয়েছে। সাধারণ ইরানিদের রক্ষা করতে তিনি শহিদ হয়েছেন। রুস্তম আলি বলেন, আমরা ৪০ দিনের শোক পালন করছি। 
এলাকার মহিলারাও ইরানের প্রতি আক্রমণে ব্যথিত। তাঁরা বলেন, বাংলায় থাকার অনেক সুবিধা রয়েছে। আমরা গরিব বাড়ির মেয়েরা বিভিন্ন হাতের তৈরি সামগ্রী ফেরি করি। যেভাবে আমেরিকা আমাদের দেশ আক্রমণ করেছে তাতে কারও মনেই আনন্দ নেই।

সম্পর্কিত সংবাদ