Bartaman Logo
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অপেক্ষায় রেল, তিন ডাকঘর ঘুরে শেষে জমা পড়ল থানায়, ওএমআর নিয়ে ‘ভ্রান্তিবিলাস’ উচ্চ মাধ্যমিকে

পরীক্ষা পরিচালনার সুবিধার্থে পূরণ করা ওএমআর শিট এবার রেলের বদলে ডাকবিভাগের দায়িত্বে আনার ব্যবস্থা করেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। তবে, সুবিধা দূর অস্ত।

অপেক্ষায় রেল, তিন ডাকঘর ঘুরে শেষে জমা পড়ল থানায়, ওএমআর নিয়ে ‘ভ্রান্তিবিলাস’ উচ্চ মাধ্যমিকে
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরীক্ষা পরিচালনার সুবিধার্থে পূরণ করা ওএমআর শিট এবার রেলের বদলে ডাকবিভাগের দায়িত্বে আনার ব্যবস্থা করেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। তবে, সুবিধা দূর অস্ত। ওএমআর জমা দেওয়া নিয়ে হুগলির উত্তরপাড়া জুড়ে যেন মঞ্চস্থ হল ‘ডাকঘর’ নাটক। দু’টি ডাকঘর ঘুরে ওএমআর জমা দিতে না পেরে উত্তরপাড়া থানার হেফাজতে রাখতে হল সেগুলিকে। আর এ নিয়ে সারাদিন হন্যে হলেন, উত্তরপাড়া রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয় (বালক) পরীক্ষাকেন্দ্রের সেন্টার সেক্রেটারি।

Advertisement

যা হয়েছে, তাকে ভ্রান্তিবিলাস বললেও কম হয়। শনিবার সংসদের তরফে স্কুলটিকে জানানো হয়, উত্তরপাড়ার রাজেন্দ্র অ্যাভিনিউ সাব পোস্ট অফিসে তাদের ওএমআর জমা দিতে হবে। শিক্ষকরা তখন খোঁজ নিয়ে দেখেন, সেই পোস্ট অফিসে উত্তরপত্র জমা নেওয়ার পরিকাঠামো নেই তো বটেই, এমনকি তাদের কাছে এমন কোনও নির্দেশও আসেনি। সংসদে তা জানানো হয়। তা সত্ত্বেও রবিবার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই পোস্ট অফিসটির নামই চূড়ান্ত রাখে সংসদ। সোমবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে সেই পোস্ট অফিসে ফের যান সেন্টার সেক্রেটারি। তখন তাঁকে বলা হয়, এটি আর সাব পোস্ট অফিসই নেই। মাখলা পোস্ট অফিসের ব্রাঞ্চ অফিস করা হয়েছে এটিকে। এরপর যোগাযোগ ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষক। তখন বিকল্প হিসেবে উত্তরপাড়া সাব পোস্ট অফিসে ওএমআর জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। স্কুলের অনতিদূরে সেই পোস্ট অফিসে গিয়ে তিনি শোনেন, তাদের লিঙ্ক নেই। ওএমআর নেওয়ার নির্দেশও নেই। একথা যোগাযোগ ভবনে জানানোর পরে প্রস্তাব আসে, সেগুলি কোন্নগর সাব পোস্ট অফিসে পাঠানো হোক। এবার বেঁকে বসেন শিক্ষক। তিনি জানান, দূরত্বের কারণে কোন্নগরে যেতে গেলে সমস্যা হবে। তারা বরং থানাতেই জমা দিয়ে দিচ্ছেন। সেই অনুযায়ী সিল করে, ফরওয়ার্ডিং লেটার করে ওএমআরের প্যাকেজ থানাতেই জমা দেওয়া হয়। এর মাঝে অবশ্য  পোস্ট অফিসগুলি ফোন করে জানায়, পরীক্ষার মতো জরুরি বিষয়ের জন্য তারা লিঙ্ক ছাড়াই ওএমআর জমা নিয়ে নেবে। ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসটি জানায়, দুপুর ৩টের মধ্যে এলে তারা ওএমআর জমা নিতে পারে। আর উত্তরপাড়া পোস্ট অফিসও ওএমআর নিয়ে আসতে বলে। সোমবার না হলেও মঙ্গলবার তারা ওএমআর নিতে পারে বলে জানায়।
সেন্টার সেক্রেটারির মতে, ওএমআর থানা থেকে পুলিশ এসকর্ট ছাড়া আনা সম্ভব নয়। পরীক্ষার দিন ছাড়া তা পাওয়া সম্ভবও নয়। এছাড়া, থানা থেকে ওএমআর যখন-তখন বের করাও কঠিন। তাছাড়া, ডাকঘর এবং থানায় জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্যাকেজিংও আলাদা হবে। তাই তিনি জানিয়ে দেন, একেবারে ২৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী পরীক্ষার দিন তিনি উত্তরপাড়া পোস্ট অফিসে দু’দিনের ওএমআর নিয়ে আসবেন। আগাগোড়াই জেলার দায়িত্বে থাকা পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক, বর্ধমান আঞ্চলিক অফিসের সঙ্গেও কথা হয় শিক্ষকের। একসময় সরাসরি আঞ্চলিক অফিসে ওএমআর পাঠানোর ভাবনাও হয়েছিল। তবে, নাটকের শেষ এখানেই নয়। বালি রেলস্টেশন থেকে ফোন আসে ওএমআর চেয়ে। সেখানে নাকি কর্মীরা বসে রয়েছেন। এবার যে রেল ওএমআরের দায়িত্বে নেই, তা স্টেশনের কর্মীরাও জানতেন না। তবে, এদিন সংসদ সভাপতি মসিউর রহমান সর্দার জানিয়েছেন, পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ হয়েছে। হাওড়ার এক ছাত্রী মোবাইল নিয়ে ধরা পড়ায় তার পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ