নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দকুমার: ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে সভাপতি বাছতে ভোটাভুটি হল। প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগে দফায় দফায় উত্তেজনায় মাঝপথে হাত তুলে ভোটগ্রহণ বন্ধও হয়ে গেল। তারপর আসরে নামে পুলিস। তারা কার্যত রেফারির ভূমিকা নেয়। ১০৯-৯৮ মার্জিনে জিতে এই কর্মসূচিতে সভাপতি হন শাসকদলের সুপারিশ করা নেতা। সোমবার এমনই নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল নন্দকুমার ব্লকের বড়গোদাগোদার পঞ্চায়েতের ভবানীচক ১৯৬নম্বর বুথ। সকাল ১১টা থেকে ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সভাপতি বাছতেই লেগে গেল তিন ঘণ্টা। বেলা ২টোর পর তৃণমূল নেতার সভাপতিত্বে ওই কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা আড়াইটা নাগাদ বিডিও দীনেশ দে এবং থানার ওসি অমিত দেব ওই ক্যাম্পে যান। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক সুকুমার দে। এদিনের প্রোগ্রামে কর্তব্যরত পুলিস অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, কর্মজীবনে অবসরের দোড়গোড়ায় পৌঁছে গিয়েছি। এরকম ভোট এই প্রথম দেখলাম।
সোমবার বিরোধী জোটের দখলে থাকা বড়গোদাগোদার পঞ্চায়েতের ভবানীচক ১৯৬ ও ১৯৭নম্বর বুথের ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি ছিল। ভবানীচক প্রাইমারি স্কুলে সকাল ১১টা থেকে ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেইমতো নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী শিবানী দে কুণ্ডু, ব্লকের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার স্নেহাশিস সামন্ত প্রমুখ ভবানীচক প্রাইমারি স্কুলে পৌঁছে যান। সকালে ওই ক্যাম্পে তৃণমূল নেতা তথা তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান গোপাল মাইতিকে ঘিরে আচমকা উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় এক বিজেপি নেতা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পুলিসের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ১৯৬নম্বর বুথে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে সভাপতি কে হবেন তানিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে হেমচন্দ্র ধাড়া এবং বিজেপি দুলালচন্দ্র মান্নার নাম প্রস্তাব করে। ক্যাম্পে আসা লোকজন একমত হতে পারেননি। এই সমস্যা মোকাবিলায় ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত হয়। ক্যাম্পে উপস্থিত হওয়ার জন্য মোট ২০৭জন রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। তাঁদের ভোট দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে মেনে নিতে বলা হয়। সেইমতো এক-একজনের নাম মাইকে ডাকা হয়। তাঁরা হাত তুলে পছন্দের ব্যক্তির নাম জানান। সেইমতো কাগজে নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু, আঙুরবালা, দেবাশিস নামে একাধিকজন উপস্থিত থাকায় ঝামেলা শুরু হয়ে যায়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় হাত তুলে ভোটাভুটি বাতিল করা হয়। এরপর কার্যত রেফারির ভূমিকা নেয় পুলিস। উপস্থিত পুলিস অফিসার ও কর্মীরা সভার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়েন। তৃণমূল ও বিজেপির সুপারিশ করা দুই ব্যক্তিকে দু’দিকে পাঠানো হয়। তারপর ক্যাম্পে রেজিস্ট্রেশন করা ২০৭জনকে পছন্দের ব্যক্তিদের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এভাবেই তৃণমূল ১০৯ ও বিজেপি ৯৮ভোট পায়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতেই বেলা ২টো বেজে যায়। ক্যাম্পে এরকম অদ্ভুত সমস্যার কথা জানতে পারেন বিডিও। তিনি এবং থানার ওসি ঘটনাস্থলে হাজির হন। বিডিও বলেন, একটা সমস্যা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটা সমাধান হয়। বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য বনমালী আড়ি বলেন, পঞ্চায়েত সদস্য কিংবা তাঁর মনোনীত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট বুথের সভাপতি করতে অসুবিধা কোথায়? শাসক দলের গোয়ার্তুমির কারণে জটিলতা তৈরি হয়। বিধায়ক সুকুমার দে বলেন, অধিকাংশ ব্যক্তি যাঁকে সভাপতি চাইছেন তিনি হলে অসুবিধা কোথায়? বিজেপির সব জায়গায় গাজোয়ারি করতে চায়। ভোটাভুটিতে ওরা শেষমেশ হেরে যায়। • নিজস্ব চিত্র