পঞ্চায়েতি প্রকল্পের টাকা পেতে ভোটার কার্ড বাধ্যতামূলক! কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘোষণা, কোপে বাংলার ৪১ লক্ষ?
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: বাতিল হতে চলেছে ‘আধার লিংকড পেমেন্ট’ ব্যবস্থা। তার পরিবর্তে এবার লাগবে এপিক বা ভোটার কার্ডের নম্বর। সঙ্গে বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন। পঞ্চায়েত স্তরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ও টাকা পেতে এবার নতুন বিধি চালুর পথে মোদি সরকার। আর সেজন্য এসআইআর পর্ব শেষে আনা হচ্ছে নতুন স্কিম। শুক্রবার এমনই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ ও মৎস্যচাষমন্ত্রী রাজীব রঞ্জন। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে উপভোক্তাদের অর্থপ্রদানের ভিত্তি হল আধার। কিন্তু সেটিকে আর উপভোক্তা শনাক্তকরণের প্রাথমিক ভিত্তি বলে বিবেচনা করা হবে না।’ এসআইআর পর্ব শেষেই মোদি সরকার যেভাবে আধারের পরিবর্তে ভোটার কার্ডকে সরকারি প্রকল্পের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাইয়ের মাপকাঠি হিসাবে বাধ্যতামূলক করছে, তার উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘোষণা সংক্রান্ত প্রতিবেদন এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তোপ দেগেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। লিখেছেন, ‘বিজেপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম, এমন ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে অবৈধভাবে বাদ দিতে এসআইআর ব্যবহার করা হচ্ছে। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, সরকারি প্রকল্পের তালিকা থেকেও এবার তাঁদের ছেঁটে ফেলার চেষ্টা চলছে। গোটা বিষয়টি আর শুধু ভোটাধিকার হরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর উদ্দেশ্য দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক সমাজ তৈরি করা— বিজেপির বিরোধিতাকারী যে কাউকে নাগরিক হিসাবে তাঁর প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।’ পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পর্বে বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। অর্থাৎ, নয়া ব্যবস্থা চালু হলে, বাংলার প্রায় ৪১ লক্ষ মানুষ সরকারি প্রকল্পের টাকা পাওয়ার অধিকার হারাবেন। যদিও পালাবদলের পর ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের জন্য সব সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নবান্ন ঘোষণাই করে দিয়েছে। 

Advertisement

সম্প্রতি ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা’ (পিএমভিজিএসওয়াই) নামে একটি নয়া প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর আওতায় বর্তমানে চালু থাকা ‘রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ্য অভিযান’-এর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছে সেটি। আর সেই প্রকল্পের মাধ্যমেই আধার বাতিল করে পেমেন্টের নতুন মানদণ্ড হিসাবে বাধ্যতামূলক করা হবে ভোটার কার্ড ও বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশনকে। শুক্রবার দিল্লিতে ওয়ার্কশপে যোগ দিয়ে মন্ত্রকের এই নয়া প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন। তিনি বলেন, ‘আধার কার্ড ইস্যু করছে, এমন সংগঠন প্রতিটি এলাকাতেই রয়েছে। কিন্তু সুবিধাভোগী শনাক্তকরণের ভিত্তি হিসাবে আধার কার্ড আর কাজ করবে না। তার পরিবর্তে বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন ও এপিক লাগবে। এগুলিই উপভোক্তাদের পরিচয়পত্র হিসাবে কাজ করবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অর্থপ্রদান করা হবে।’ একইসঙ্গে পঞ্চায়েতগুলিকে মন্ত্রীর পরামর্শ, নিজস্ব তহবিল তৈরি করতে হবে। পঞ্চায়েতগুলির পারফরম্যান্স কেমন, অর্থ কমিশনের ২০ শতাংশ টাকা তার উপর নির্ভর করবে। অর্থ? স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন রসদ ব্যবহার করে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে হবে পঞ্চায়েতগুলিকে।