গদি ছাড়তেই হবে, মোদিকে তোপ রাহুলের, জ্ঞানেশকে প্রকাশ্যে ‘ইমপিচ’ বিরোধীদের, আজ সমাবেশ রামলীলায়
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘ভারতের আত্মাকে টার্গেট করেছেন। ভারতকেই বদলে দিতে চাইছেন। গণতন্ত্রকে ধ্বংসের চক্রান্ত... গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ অধিকার ভোটকেই চুরি... এসব কিছুই ভুলছি না। ভুলবও না। তৈরি থাকুন নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ। আপনাদের হাতে সময় বেশি নেই। গদি ছাড়তেই হবে।’ দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী সমাবেশের ২৪ ঘণ্টা আগেই হুঁশিয়ারি দিলেন রাহুল গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতার ঘোষণা, রবিবার জ্ঞানেশ কুমার, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হবে। তিনি আরও বললেন, ‘রামলীলা ময়দানে দেখবেন ভারত কী চাইছে! এখনই সতর্ক করছি।’ রামলীলা ময়দানে সমাবেশের প্রাক্কালে শনিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে বসেছিল প্রতীকী সংসদ অধিবেশন। সেখানেই প্রকাশ্যে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ হয় জ্ঞানেশ কুমারের। প্রতীকী অধিবেশন শেষে উপস্থিত এমপি থেকে সাধারণ মানুষ হাত তুলে ভোটদানের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের পক্ষেই রায় দেন। তার আগে সভায় রাহুল বলেন, ‘আজ আমাদের এভাবে একটি খোলা আকাশের নীচে বাগানের মধ্যে গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াইয়ের জন্য সমবেত হতে হচ্ছে কেন? কারণ, সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার রাস্থা মোদি-শাহ বন্ধ করে দিয়েছেন।’ এরপরই তাঁর হুমকি, ‘মনে রাখবেন, যে খেলা আপনারা শুরু করেছেন, সেই খেলায় আপনাদের পতন ঘটাবে সম্মিলিত বিরোধী জোট! ভারতকে আপনারা অবিস্মরণীয় এক পরীক্ষায় ঠেলে দিয়েছেন। সেই পরীক্ষায় আপনাদের ব্যর্থতা অনিবার্য।’

Advertisement

আজ রামলীলা ময়দানে বহু প্রতীক্ষিত ‘ইন্ডিয়া প্লাসে’র সমাবেশ হতে চলেছে। ‘প্লাস’ কেন? কারণ, এই সমাবেশ আর নিছক বিজেপি বিরোধী কোনো জোটের নয়। নাগরিক মঞ্চ, অরাজনৈতিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সমাজকর্মী, আরটিআ‌ই অ্যাক্টিভিস্ট সকলেই যুক্ত হয়ে পড়েছে এই কর্মসূচির সঙ্গে। সকলেই জানিয়েছে, তারা আসছে। সভা নিয়ে যে দিল্লি পুলিশ তথা কেন্দ্রীয় সরকার যথেষ্ট উদ্বেগে, সেটাও স্পষ্ট। কারণ, রাহুল ঘোষণা করেছেন রাজধানীর কেন্দ্রস্থল কনট প্লেস থেকে মিছিল করে যাওয়া হবে রামলীলা ময়দানে। দিল্লি পুলিশ বলেছে, মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ সংঘাতের আবহ চড়ছে ২৪ ঘণ্টা আগে থেকেই। 
রাহুল এদিন প্রতীকী সংসদ ও জনতার ইমপিচমেন্ট মোশনের সভায় এও বলেছেন, এসআইআরে ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ ভারতের মোট ভোটারের ১৫ শতাংশ। প্রত্যেক সাতজন দেশবাসীর মধ্যে একজনের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে। এই ভোটাররা যদি অবৈধ হয়, তাহলে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটও তো অবৈধ। কংগ্রেস সাংসদের বার্তা স্পষ্ট, ‘আজ আপনাদের সামনে ঘোষণা করছি, জ্ঞানেশ কুমার রক্ষা পাবেন না। এত প্রমাণ আমাদের হাতে আছে যে, কোনোভাবেই তাঁর পক্ষে আর গদিতে থাকা সম্ভব নয়। আজকের এই সভা মোদি, শাহ, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর লক্ষ্যে। জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে পারবেন না মোদি-শাহ। ওঁকে শুধু সরতেই হবে না, আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হবে।’ এদিন প্রতীকী সংসদ অধিবেশন ও জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট মোশন থেকে প্রস্তাবের আকারে দাবি তোলা হয়েছে—এক, এসআইআর বাতিল করতে হবে। দুই, ২০২৩ সালের ভোটার তালিকাকে আবার বৈধ হিসাবে ফেরাতে হবে। তিন, মুখ্য ঩নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সংশোধিত আইন বাতিল করতে হবে। পুরানো প্রথায় হবে মনোনয়ন। আর সর্বোপরি চার, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ!