Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পৌষমেলা আয়োজনের জন্য আবেদন করবে বিশ্বভারতী, জাতীয় পরিবেশ আদালতেই ঝুলে ভাগ্য

‘ব্রহ্মডাঙা’ শান্তিনিকেতনে দুর্গোৎসব নেই। এখানকার প্রধান উত্সব পৌষমেলাই

পৌষমেলা আয়োজনের জন্য আবেদন করবে বিশ্বভারতী, জাতীয় পরিবেশ আদালতেই ঝুলে ভাগ্য
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ‘ব্রহ্মডাঙা’ শান্তিনিকেতনে দুর্গোৎসব নেই। এখানকার প্রধান উত্সব পৌষমেলাই। তাই পৌষমেলার অপেক্ষাতেই সারা বছর মুখিয়ে থাকে শান্তিনিকেতন। এই পৌষমেলাই হয়ে ওঠে প্রাক্তনীদের পুনর্মিলন উত্সব। দেশ-বিদেশের মানুষের মহামিলনক্ষেত্র। গত বছরের মতো এবছরও পূর্বপল্লির মাঠে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের পরিচালনায় আয়োজিত হতে চলেছে পৌষমেলা। অন্তত বিশ্বভারতী সূত্রে খবর এমনটাই। তবে, মেলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতের হাতেই। কর্তৃপক্ষের দাবি, মেলা করতে চেয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে শীঘ্রই আবেদন করা হবে।

Advertisement

জাতীয় পরিবেশ আদালত মেলার আয়োজনে অনুমতি দেবে বলেই আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, মেলা যাতে হয় সেব্যাপারে আমাদের একশো শতাংশ সদিচ্ছা রয়েছে। কিন্তু মেলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ জাতীয় পরিবেশ আদালতের হাতেই রয়েছে। মেলার ব্যাপারে তাদের একাধিক গাইডলাইন রয়েছে। সেইসব মেনেই আমরা মেলার পরিবেশবান্ধব মেলার আয়োজন করব। এনিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে আমরা আবেদন করব। আশা করছি নিয়ম মেনে মেলা করলে আদালত আপত্তি জানাবে না। পৌষমেলা শুরু ৭পৌষ অর্থাৎ ২৩ডিসেম্বর। তার আগের দিন ২২ডিসেম্বর মেলার দূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতে। যা গলার কাঁটার মতো বিঁধছে। যদিও তার প্রভাব মেলায় পড়বে না বলেই আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। 
বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পৌষমেলা নিয়ে বৈঠক হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের সভাপতিত্বে হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতী ও মেলার আয়োজক শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে মেলা করার ব্যাপারে সকলেই ঐক্যমত্যে পৌঁছেছেন। মেলার আয়োজক শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, বৈঠক হয়েছে। পরিবেশ আদালতের সবরকম শর্ত মেনেই বিশ্বভারতী ও শান্তিকেতন ট্রাস্ট যৌথভাবে ঐতিহ্য মেনেই মেলা করবে।’ বৈঠকে ঠিক হয়েছে, পরিবেশ আদালতের গাইডলাইন মেনে মেলা হবে ছ’দিনেরই। তবে মেলা বর্ধিত করার কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। ছ’দিন শেষ হলেই বন্ধ করে দেওয়া হবে মেলার মাঠের প্রবেশদ্বার। দু’দিনের মধ্যে মেলার মাঠ পরিষ্কার করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০১৯সালে শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট এবং বিশ্বভারতীর আয়োজনে পূর্বপল্লির মাঠে মেলা হওয়ার পর প্রায় পাঁচ বছর মেলা বন্ধ ছিল। এরমধ্যে ২০২০সালে মহামারীর কারণে মেলা হয়নি। ২০২১ এবং ২০২২ সালে মেলা করেনি বিশ্বভারতী। গতবছর বিশ্বভারতী মেলা করলেও খুব কম সময়ে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভিনরাজ্যের স্টল সেভাবে দেখা মেলেনি। তবে, এবারের মেলায় পুরনো মেজাজ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন প্রত্যেকেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ