Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছিনতাইবাজের হাতে জখম বিশ্বভারতীর ছাত্রী, তাঁর মা

শান্তিনিকেতনের সীমান্তপল্লিতে রবিবার রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ‌

ছিনতাইবাজের হাতে জখম বিশ্বভারতীর ছাত্রী, তাঁর মা
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা বোলপুর: শান্তিনিকেতনের সীমান্তপল্লিতে রবিবার রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ‌ বিশ্বভারতীর সঙ্গীত ভবনের ছাত্রী ও তাঁর মায়ের সঙ্গে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁরা দু’জনে শান্তিনিকেতনের অরশ্রী মার্কেট থেকে সীমান্তপল্লির ভাড়াবাড়িতে ফিরছিলেন। নির্জন রাস্তায় তাঁদের একা পেয়ে অতর্কিতে এক ‌দুষ্কৃতী মা ও মেয়ের উপর চড়াও হয়। তাঁদের মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাই করতে গেলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। দুষ্কৃতীর লাঠির আঘাতে মৈত্রী মুখোপাধ্যায় নামের ওই ছাত্রী গুরুতর জখম হন। তাঁর মা পাপিয়া মুখোপাধ্যায়কেও ধাক্কা দিয়ে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। তাতে তাঁর ডান হাত ভেঙে যায়। এই ধস্তাধস্তিতে দুষ্কৃতী মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে পালালেও নিজের মোবাইলটি ফেলে যায়। তবে শান্তিনিকেতন থানাকে বিষয়টি জানালে অভিযোগ নিতে পুলিস গড়িমসি করে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত নেশাখোড়, লকআপে রাখলে নিজের হাত পা কেটে নেয়, মাথা ফাটিয়ে নেয়, এই যুক্তি দেখিয়ে পুলিস অভিযোগ নিতে চাইনি বলে ছাত্রীর দাবি। এমনকী, থানার ১০০ মিটারের মধ্যে ওই দুষ্কৃতীকে দেখা গেলেও তাঁকে পুলিস এখনও গ্রেপ্তার করেনি বলে মৈত্রীর অভিযোগ। স্বভাবতই গুরুতর এই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই ঘটনায় বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অবিলম্বে দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৈত্রী ও তাঁর সহপাঠীরা।

Advertisement

মৈত্রী, শান্তিনিকেতনের সঙ্গীত ভবনের মণিপুরী বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাঁর বাড়ি বাঁকুড়ার কেশিয়াপোলে। ‌সেমেস্টারের চলছে বলে দিন কয়েক আগে মৈত্রীর মা পাপিয়া মুখোপাধ্যায় শান্তিনিকেতন আসেন। এরপর রবিবার স্থানীয় অরশ্রী মার্কেট থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে তাঁরা ভাড়া বাড়িতে ফিরছিলেন।‌ এ প্রসঙ্গে মৈত্রী বলেন, রাস্তাটি অত্যন্ত নির্জন। মা ও আমি ফিরছিলাম। এমন সময় ওই দুষ্কৃতী তাঁদের সামনে সাইকেল রেখে লাঠি হাতে আচমকা চড়াও হয়। আমার মাকে সজোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। পড়ে গিয়ে মায়ের ডান হাত ভেঙে যায়। এরপর সে আমাদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনতাই করে চম্পট দেয়। তবে ধস্তাধস্তিতে তার মোবাইল নীচে পড়ে গিয়েছিল। যা পরবর্তীতে পুলিসের কাছে জমা দিয়ে আসি। তবে, অভিযোগ জানাতে গেলে থানার আধিকারিকরা গা ছাড়া মনোভাব দেখান। এমনকী, ওই দুষ্কৃতীকে লক আপে রাখা যায় না। রাখলে নিজের শরীর কাটাকাটি করে, মাথা ফাটিয়ে পুলিসকে ব্যতিব্যস্ত করে। এসব বলে আমাকে অভিযোগ জানানো থেকে বিরত করার চেষ্টা করা হয়। তবে, শেষমেষ অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ওই দুষ্কৃতী থানার আশেপাশে ঘোরাঘুরি করলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও মৈত্রী অভিযোগ তুলেছেন। যদিও থানার এক আধিকারিক বলেন, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ সিং বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে, বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে টহল দেওয়ার জন্য শান্তিনিকেতন থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ