সংবাদদাতা, বোলপুর: অধঃপতন অব্যাহত! ফের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক (এনআইআরএফ)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে গুরুদেবের স্বপ্নের বিশ্বভারতী চলে গেল আরও পিছনের সারিতে। গত বছর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে অবস্থান করেছিল। এ বছর সেখান থেকে নেমে ঠাঁই হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০-এর মধ্যে। ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কের এহেন অধোগতিতে উদ্বিগ্ন প্রাক্তনী, আশ্রমিক ও অধ্যাপকদের একাংশ।
বিশ্বভারতীর এই অধঃপতনের পেছনে মূলত প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলকেই দায়ী করছে অধ্যাপক সংগঠন ও প্রাক্তনী মহল। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎবাবুর একবগ্গা স্বভাবের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন, গবেষণা, শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্পে যোগদানে বাধা, অধ্যাপকদের গবেষণায় অংশগ্রহণে নিয়মের জটিলতা তৈরি করা ও শিক্ষক- অধ্যাপক নিয়োগ না হওয়ার মতো বিষয়গুলি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে।
২০১৬ সালে এনআইআরএফ র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বভারতীর স্থান ছিল ১১তম স্থানে। এটাই ছিল সর্বোচ্চ। কিন্তু বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ২০১৮ সালে স্থায়ী উপাচার্যের পদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই র্যাঙ্কিং ক্রমশ নিচে নামতে থাকে। ২০১৮ সালে ৩১তম, ২০১৯ সালে ৩৭তম, ২০২০ সালে ৫০তম ও ২০২১ সালে ৬৪তম স্থানে নেমে আসে। এরপর ২০২২ সালে অবনমন ৯৮তে নামে। ২০২৩ সালে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত দিয়ে ৯৭তম স্থানে ওঠে। তবে সেই বছরের র্যাঙ্কিং প্রকাশের সময়সীমাতেই বিদ্যুৎবাবুর কার্যকাল থাকায় তাঁকে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। গত বছর দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম ১০০তেও ঠাঁই হয়নি গুরুদেবের সাধের বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতীর।