সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসব নিয়ে ফের বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এবছরও বিশ্বভারতী দোলের দিনে বড়ো করে বসন্ত উৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সুর চড়েছে। বৃহস্পতিবার বোলপুরে বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলোচনাসভায় যোগ দিতে এসে রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, বিশ্বভারতী চাইলে বসন্ত উৎসব করতে পারত। রাজ্য সরকার সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ছিল। বসন্ত উৎসব না হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ী মহলেও।বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোলের দিন বড়ো আকারে উৎসবের পরিবর্তে ঘরোয়াভাবে বসন্ত বন্দনার আয়োজন করা হবে।
তবে, সেই দিনটি এখনও ঠিক হয়নি। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়া, অধ্যাপক ও কর্মীরা। সেখানে পর্যটকরা যেতে পারবেন না। বুধবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সভাকক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বলেন, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে সকলকে নিয়ে এই উৎসবের আয়োজন করা সম্ভব নয়। বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।উল্লেখ্য, শেষবার ২০১৯ সালে বড় আকারে বসন্ত উৎসব আয়োজিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে করোনা অতিমারী ও অন্যান্য কারণ দেখিয়ে তা বন্ধ থাকে। মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, বিশ্বভারতী চাইলেই বসন্ত উৎসব করতে পারত। এই জিনিস কয়েক বছর ধরে আমরা লক্ষ্য করছি। এর আগেও রাজ্য সরকার সাহায্য করেছে। কিন্তু করোনার জন্য বসন্ত উৎসব হয়ে ওঠেনি। তাই ওঁরা ওঁদের মতো করছেন। আমরা বোলপুরের কয়েকটা ওয়ার্ডে কয়েক বছর ধরে বসন্ত উৎসব করে আসছি। আমরাও চাই, বাইরে থেকে যেসব পর্যটক আসছেন তাঁদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়। তার জন্য ওয়ার্ডগুলিতে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হবে।এদিকে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বসন্ত উৎসব না হলে তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। এপ্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এখানে ব্যবসার বিষয়টি পৌষমেলা এবং বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করেই। ওঁরা বসন্ত উৎসব না করলে ব্যবসায়ীদের অসুবিধা তো হবেই। গত কয়েক বছর ধরে সেই অসুবিধা হচ্ছে। বিশ্বভারতী সহযোগিতা চাইলে জেলা প্রশাসন তো আছেই। রাজ্য সরকারের তরফেও সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া আছে। বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুনীল সিংহ বলেন, পৌষমেলায় সমস্যা না হলে বসন্ত উৎসব নিয়েও সমস্যা থাকার কথা নয়। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া যেত। সবমিলিয়ে বিশ্বভারতীর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।