নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: স্কুলে ‘কান ধরে ওঠবস’ করানো হচ্ছে প্রধান শিক্ষিকাকে! সিসি ক্যামেরার এমন ফুটেজ ঘিরে জলপাইগুড়িতে তোলপাড়। ঘটনাটি জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রধান শিক্ষিকার চেম্বারে ‘কান ধরে ওঠবস’ করছেন একজন। দাবি, তিনি আর কেউ নন, খোদ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ফুটেজ পোস্ট করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। পোস্টে বিরোধী দলনেতার দাবি, স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা বর্তমানে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় ওই শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সৈকতের দাবি, এআই দিয়ে ওই ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তাঁর পাল্টা তোপ, আমি জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান হওয়ায় বিজেপি আতঙ্কে। সেকারণে এআই দিয়ে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করে ছড়ানো হচ্ছে।
যদিও ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সত্যি বলে সোমবার রাতে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস। ফুটেজে কাকে কান ধরে ওঠবস করতে দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি কোনও উত্তর না দিলেও তিনি বলেন, এটা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। ঘটনাটি চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথমদিকের। আমরা ডিআই-এর মাধ্যমে স্কুল শিক্ষাদপ্তরের কর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখনও এনিয়ে কোনও সুরাহা পাইনি। যেভাবে ভয় দেখানো চলছে, বাধ্য হয়ে বাড়িতেও আমি সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি। এর বেশি কিছু এখন বলতে পারছি না। কারণ এনিয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রধান শিক্ষিকার দাবি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। ফরেন্সিক তদন্ত হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, ওই ফুটেজ আসল না নকল।
তবে ঠিক কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলের মধ্যে ওঠবসের মতো ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি প্রধান শিক্ষিকা। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। ফলে এ প্রসঙ্গে এখন কিছু বলতে চাই না। জলপাইগুড়ি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) বালিকা গোলে বলেন, বিষয়টি জানি। সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এনিয়ে কিছু বলতে পারব না। এদিকে জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা ইস্যুতে এদিন তোপ দেগেছেন ওই স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মিড ডে মিলে আর্থিক নয়ছয় সহ নানা বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। তাছাড়া ওই স্কুলের প্রায় সব শিক্ষিকাই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সরব। এখন বিজেপি ভুয়ো ভিডিও তৈরি করে বাজার গরম করার চেষ্টা করছে। এসবে লাভ হবে না।