Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়ুয়ার সংখ্যা ৯১ জন, শিক্ষক এক! কালনার নতুনচর স্কুল নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা

এ যেন হরিঘোষের গোয়াল! ৯১ জন পড়ুয়াকে সামলাচ্ছেন একজন শিক্ষক। এভাবেই চলছে কালনা নুতনচর অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুল

পড়ুয়ার সংখ্যা ৯১ জন, শিক্ষক এক! কালনার নতুনচর স্কুল নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গণেশ মজুমদার, কালনা: এ যেন হরিঘোষের গোয়াল! ৯১ জন পড়ুয়াকে সামলাচ্ছেন একজন শিক্ষক। এভাবেই চলছে কালনা নুতনচর অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুল। পঠন-পাঠনের হাল দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামের মানুষ। কালনা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক রুমা ঘোষ বলেন, এপ্রিল থেকে স্কুলটি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। দু’জন শিক্ষক পাঠানো হয়েছিল। একমাসের বেশি তাঁরা থাকতে চাননি। তারপরও দু’জন শিক্ষককে দেওয়া হলেও তাঁরা যেতে চাননি। বিষয়টি জেলা শিক্ষাদপ্তরকে জানানো হয়েছে।

Advertisement

কালনা থানার কৃষ্ণদেবপুর পঞ্চায়েতের অধীন ভাগীরথী নদীর ওপারে অবস্থিত নুতনচর গ্রাম। স্থলপথে নদীয়া জেলার সঙ্গে যোগ থাকলেও গ্রামের মানুষকে  চিকিৎসা, হাটবাজার, স্কুল, কলেজ সবকিছুর জন্যই নদীপথে নৌকায় কালনায় যেতে হয়। এই গ্রামে রয়েছে নুতনচর অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুল। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। এক সময় শতাধিক পড়ুয়া ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়ে গমগম করত স্কুলটি। গত এপ্রিল মাসে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজয় সিংহকে নিয়ে মিড ডে মিলের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পুলিশের হস্তক্ষেপেও সেই ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। তারপর থেকে প্রধান শিক্ষক স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছন। জেলা শিক্ষা দপ্তর তাঁকে শো-কজ করে। সেই থেকেই শিবরাত্রির সলতে স্কুলের একমাত্র শিক্ষক টুটুন ঘরামিকে ৯১জন পড়ুয়াকে সামলাতে হচ্ছে। একার পক্ষে হিমসিম খেতে হচ্ছে ওই শিক্ষককে। 
কালনা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তর থেকে পালা করে দু’জন শিক্ষককে পাঠানো হলেও কেউ ১৫ দিন তো কেউ একমাসের বেশি ওই স্কুলে থাকতে চাননি। দু’জন শিক্ষককে পাঠানো হলেও তাঁরাও যেতে নারাজ বলে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে জানিয়ে দিয়েছেন। এদিকে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় মিড ডে মিল তৈরির কর্মী থেকে খরচের টাকা সবই আটকে রয়েছে। কয়েক মাস বেতন না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে মিড ডে মিলের কর্মীদের মধ্যে। কবে এসব থেকে সুরাহা মিলবে বুঝতে পারছেন না গ্রামবাসীরা।  স্কুলের বর্তমান শিক্ষক টুটুন ঘরামি বলেন, প্রধান শিক্ষক আসা বন্ধ করে দেওয়ায় দু’জন শিক্ষককে নেওয়া হয়েছিল। কেউ ১৫দিন তো কেউ এক মাস এসেছিলেন। তারপর থেকে একাই স্কুল চালাচ্ছি। ধার দেনা করে চলছে। বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে জানানো হয়েছে। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য সাফিজ শেখ বলেন, এভাবে একটা স্কুল চলতে পারে না। একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রায় ১০০জন ছাত্রছাত্রীকে পড়ানো সম্ভব নয়। পড়ুয়ারাও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিডিও থেকে শিক্ষা দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও লাভ হচ্ছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ