Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাদকের নেশায় সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গ্রামের যুবকরা, দু’বছরে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু

নেশামুক্ত গ্রাম গড়ার লক্ষ্যে অভিনব উদ্যোগ নিলেন মুরারইয়ের আম্ভুয়া গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামে মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাইক র‌্যালি ও পথসভা করলেন এলাকার বাসিন্দারা।

মাদকের নেশায় সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গ্রামের যুবকরা, দু’বছরে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নেশামুক্ত গ্রাম গড়ার লক্ষ্যে অভিনব উদ্যোগ নিলেন মুরারইয়ের আম্ভুয়া গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামে মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাইক র‌্যালি ও পথসভা করলেন এলাকার বাসিন্দারা। মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের এবং যারা মাদক গ্রহণ করে তাদের চিহ্নিত করে সামাজিক বয়কটের পাশাপাশি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। সেইসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন তাঁরা। 

Advertisement

ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া আম্ভুয়া গ্রাম। এই গ্রামে দিনদিন মাদকের ব্যবহার বাড়ছে। যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক অশান্তি বাড়ছে। দুঃস্থ পরিবারগুলি আরও দুঃস্থ হয়ে পড়ছে। অনেকে মারা যাচ্ছে বা আত্মহত্যা করেছেন। অথচ কয়েক বছর আগে গ্রামে মাদকের এত রমরমা ছিল না। স্বভাবতই চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছে গ্রামবাসীদের। তাই মদ ও মাদক বিক্রি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাতে যুব সমাজ থেকে বিভিন্ন বয়সি মানুষ যোগ দিয়েছেন। মাদকের ক্ষতিকারক দিকগুলি আলোচনা করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে মাদকের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব সম্পর্কে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেন তাঁরা। রবিবার টোটোয় মাইক বেঁধে গ্রামজুড়ে র‌্যালি ও পথসভার মাধ্যমে সচেনত করেন তাঁরা। তাঁদের মতে, একটি শিশুর প্রকৃতভাবে বেড়ে উঠতে সুন্দর সমাজ প্রয়োজন। সেই সুন্দর সামাজ  গড়ার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছেন। একজন সচেতন মানুষই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে পারে। সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। সচেতন করতে হবে।
র‌্যালিতে অংশ নেওয়া মারজান আলি, মন্টেন মুন্সি, পশু চিকিৎসক আসগর আলিরা বলেন, মদ, গাঁজা, হেরোইন, জুয়ার রমরমার কারণে গ্রামের তরুণদের স্বাস্থ্য ও মানসিকতা দুটোই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবারে অশান্তি বাড়ছে। গ্রামে যেভাবে বহিরাগত মাদকাসক্তদের উৎপাত বাড়ছে তাতে মহিলারা নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন। এমনকী, নেশার কারণে গত পাঁচ বছরে প্রায় দশজন মারা গিয়েছেন। অনেকে নেশার টাকা জোগাড়ে অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। অনেকে আত্মহত্যাও করছেন। তাই গ্রামে কেউ যাতে প্রকাশ্যে নেশার দ্রব্য সেবন বা বিক্রি না করেন তারজন্য নিষেধ করা হয়েছে। ছ’বছর ধরে গ্রামবাসীদের এনিয়ে সচেতন করে আসছি। পুলিশও সহযোগিতা করে। তবুও নির্মুল করা যাচ্ছে না। তাই বলা হয়েছে, কেউ যদি মাদক সেবন বা বিক্রি করেন তাহলে সামাজিক বয়কট করা হবে। প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিডিও বীরেন্দর সিং বলেন, যুবকরা মাদকাসক্ত হওয়ায় হয়তো বাসিন্দারা সচেতন করছেন। প্রয়োজনে পুলিসকে দিয়ে গ্রামে অভিযান চালানো হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ