Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় তীব্র গরমেও কার্যত ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন সালারের গ্রাম

কারও বাড়িতে জল নেই। কোথাও আবার অসুস্থকে বাতাস করার জন্য বাড়ির লোকজন বাজারে হাতপাখা খুঁজে বেরিয়েছেন। কেননা ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন হয়ে রয়েছে সালার থানার হাট পিলখুণ্ডি গ্রাম।

ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় তীব্র গরমেও  কার্যত ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন সালারের গ্রাম
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: কারও বাড়িতে জল নেই। কোথাও আবার অসুস্থকে বাতাস করার জন্য বাড়ির লোকজন বাজারে হাতপাখা খুঁজে বেরিয়েছেন। কেননা ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন হয়ে রয়েছে সালার থানার হাট পিলখুণ্ডি গ্রাম। বিদ্যুৎ দপ্তরে বারবার সমস্যার কথা জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। এরপর মঙ্গলবার বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিস খুলতেই ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। পরে সেখানে সালার থানার পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজ এই গ্রামের নিত্যদিনের সমস্যা। সন্ধ্যার পর ঠিকমতো পাখাও ঘুরতে চায় না। এরপর নিয়ম করে প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং লেগেই রয়েছে। তবে এই সমস্যা বাসিন্দাদের গা সওয়া হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু সোমবার রাতে ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাঁদের। বাসিন্দা সাকিম শেখ বলেন, এদিন রাত ১০টা নাগাদ বিকট শব্দ করে ট্রান্সফরমার পুড়ে যায়। এরপর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে গোটা গ্রাম। রাতভর বিদ্যুৎ দপ্তরের টোল ফ্রি নম্বরে বারবার কল করা হয়েছে। স্টেশন ম্যানেজারকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। যদিও সালার বিদ্যুৎ গণবণ্টন কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাসিন্দাদের সকালে অফিসে দেখা করার জন্য বলা হয়।
এদিকে এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কয়েকশো বাসিন্দা সালারের বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসে এসে জড়ো হন। যদিও সেই সময় স্টেশন ম্যানেজার সেখানে হাজির ছিলেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বাসিন্দারা। তাঁরা অফিসের সামনের রাস্তা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে অফিসের ভিতরে অবস্থান শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এসব চলতে থাকে। সেইসময় সালার থানার পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পুলিসের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিকেল চারটে নাগাদ পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার বদলে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারী মহম্মদ নাজির হোসেন বলেন, প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও স্টেশন ম্যানেজার আমাদের সঙ্গে দেখা বা কথা বলতে চাননি। এতেই বাসিন্দারা আরও রেগে গিয়েছিলেন। আধিকারিকের ১১টার সময় অফিস ঢোকার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১২টায় অফিস ঢোকেন। তারপরও আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি।
এদিকে প্রায় ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বাসিন্দারা চরম সমস্যায় পড়েন। অনেকের বাড়িতে জল ফুরিয়ে যাওয়ায় প্রতিবেশী গ্রাম থেকে বাইকে করে জল আনতে দেখা গিয়েছে। প্রচুর বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পায়চারি করতে দেখা গিয়েছে। 
গ্রামের আব্দুল আজিজ মির্জা বলেন, গ্রামে অনেক অসুস্থ ও প্রসুতি রয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। অসুস্থদের একটু বাতাস করার জন্য বাজারে হাতপাখা খুঁজেছেন অনেকেই। কিন্তু সেটাও বাজারে কার্যত অমিল। কারণ এখন আর হাতপাখার ব্যবহার নেই বলে দোকানে পাওয়া যাচ্ছিল না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ