ভিলেজ ট্যুরিজম বা গ্রামীণ পর্যটনের চাহিদা বাড়ছে। শহুরে যাপন ছেড়ে একেবারে ভিন্ন স্বাদ নিতে চাইছেন পর্যটকরা। গ্রামের দূষণমুক্ত পরিবেশ, লোকজনের আন্তরিক ব্যবহার এইসবই পর্যটকদের টানছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, রাতের তারা ভরা আকাশ ইত্যাদি তো রয়েছেই। এমনই এক গ্রামীণ পর্যটন নিয়ে মেতে উঠেছে মধ্যপ্রদেশ পর্যটন দপ্তর।
ব্যস্ত শহর ভূপাল থেকে মাত্র ২৮ কিমি দূরে খাড়ি গ্রাম। আর সেখানেই নিরিবিলিতে গড়ে উঠেছে মধ্যপ্রদেশের ভিলেজ ট্যুরিজম। শুধুই নিস্বর্গ নয়, এই গ্রামের আর একটা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখানে গোন্দ, ভিল আর ভিলালা, এই তিনটি উপজাতি একসঙ্গে বাস করে। একটু পাহাড়ি অঞ্চলে ঘেরা গ্রাম। এখানে পর্যটকদের জন্য সাজানো হয়েছে নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থা। আর সেই কাজ নিখুঁতভাবে করছেন গ্রামের মহিলারা। স্বল্পশিক্ষিত গ্রাম্য মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে নানা কাজে। এই যেমন অর্জুন সিং গৌরের কথাই ধরুন, পেশায় কৃষক। বিস্তৃত এলাকা জুড়ে তাঁর খেত ও বাসস্থান। তাঁর থেকে খানিক জমি নিয়ে টুইন ভিলা তৈরি করে পর্যটকদের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে সরকারের তরফে। কিন্তু এই বাড়ি দু’টির চেহারা, সাজ, এই সবই হাতে কলমে করেছেন খাড়ি গ্রামের মহিলাদের একটি দল।
মোট ১০-১২ জন মহিলা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি দল। গ্রাম্য কায়দায় শাড়ি পরা, মাথায় ঘোমটা টানা, কিন্তু নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে ১২ জোড়া হাত। কখনও অন্দরসজ্জার জন্য ল্যাম্পশেড, প্রদীপ, শোপিস বানাচ্ছেন, কখনও বা পুরনো কাপড় কেটে জুড়ে তৈরি করছেন রঙিন পর্দা। গ্রামের মহিলাদের এইসব কাজ শেখানোর জন্য ফিরোজাবাদ থেকে পেশাদার লোক নিয়ে আসা হয়েছে। গ্রামটাকে সাজিয়ে তুলে মেয়েরা রোজগার করছেন ভালোই। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম বাবলি গৌর। বললেন, ‘শুধু টাকা রোজগারই নয়, একটা স্বীকৃতি। এই যে আমাদের কাজের কদর হচ্ছে এগুলো আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।’
প্রার্থনা গৌরের এখন ভীষণ তাড়া। সকাল থেকে তাড়াতাড়ি হাত চলে তাঁর। যত তাড়াতাড়ি ঘরের কাজ শেষ হবে ততই বেশি সময় পাবেন ল্যাম্পশেড বানানোর। শুধুই যে কাজ শিখে রোজগার তাও নয়, নিজেদের পরিচিত বিদ্যাকেও কাজে লাগাচ্ছেন মহিলারা। মধু, গুড় এইসব বানিয়ে তার প্যাকেজিং হচ্ছে। তারপর তা-ই বিক্রি করছেন গ্রামের ‘ট্যুরিস্ট বাজারে’। কদর করে তা কিনছেন বিদেশিরা।