Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজীব জমানায় অনিয়ম! তদন্তে কোচবিহারে ভিজিল্যান্স কমিশন

রাজীব জমানায় অনিয়ম! তদন্তে কোচবিহারে ভিজিল্যান্স কমিশন
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও কোচবিহার: ফের ভিজিল্যান্স কমিশনের হানা মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অভিযোগ,ডাঃ রাজীব প্রসাদ এমএসভিপি থাকাকালীন ছয় বছরে একাধিক নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই অভিযোগ নিয়ে তদন্তে করতেই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে যায় কমিশনের একটি টিম। তারা হাসপাতাল থেকে প্রায় ১৭ দফা তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রাক্তন এমএসভিপি অবশ্য অভিযোগ মানতে নারাজ। তদন্ত নিয়ে আপত্তি নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, আমি এমএসভিপি থাকালীন কোনও নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এদিকে সমগ্র ঘটনায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সহ জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে আলোড়ন পড়েছে। 

Advertisement

এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ বহুদিনের। রাজীব প্রসাদ এমএসভিপি থাকাকালীন নিরাপত্তারক্ষী নিতে এজেন্সি নিয়োগ, রোগীদের খাবার ও লিনেন ওয়াশিং বিল প্রভৃতি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি, স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনও তদন্তে নেমেছে।
বৃহস্পতিবার কমিশনের তিন সদস্যের একটি দল হাসপাতালের এমএসভিপি অফিসে যায়। ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভিজিল্যান্সের জোনাল ডিএসপি পদ মর্যাদার এক অফিসার। তাঁরা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালে ছিলেন। এমএসভিপির পাশাপাশি ফিনান্স অফিসারের ঘরেও যান তাঁরা। বিভিন্ন ফাইল ঘেঁটে দেখেন বলে খবর। 
হাসপাতালের বর্তমান এমএসভিপি ডাঃ সৌরদীপ রায় বলেন, ভিজিল্যান্স কমিশনের একটি টিম এসেছিল। তাঁরা পুরনো কিছু অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আধিকারিদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি কিছু তথ্য নিয়ে গিয়েছেন। 
এর আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ভিজিল্যান্স কমিশনের টিম হানা দিয়েছে। ফের কমিশন সেখানে যাওয়া শোরগোল পড়েছে। প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন এমএসভিপির জমানায় নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে গত এপ্রিল মাসে হাসপাতাল কৃর্তপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছিল কমিশন। ওসব অভিযোগ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছিল কমিশন। দু’সপ্তাহ আগে বর্তমান এমএসভিপি সেসব তথ্য পাঠান। তাতে কমিশন সন্তুষ্ট হয়নি। তাই এদিন সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে প্রায় ১৭ দফা তথ্য সংগ্রহ করে কমিশন। 
প্রশাসন সূত্রের খবর, সেগুলির মধ্যে নিরাপত্তা এজেন্সির মেয়াদ বাড়ানোর সময়কাল, এজেন্সিকে প্রদান করা টাকার পরিমাণ, এজেন্সির নাম ও ঠিকানা, অতিরিক্ত খাবার চাওয়ার কারণ, অতিরিক্ত খাবারের বিল কত, এতে রাজকোষ থেকে খরচের পরিমাণ, লিনেন ধোয়ার বিল বৃদ্ধির  কারণ, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত লিনেন ওয়াশের জন্য ঠিকাদার সংস্থাকে কতা টাকা বিল মেটানো হয়েছিল, বছর ভিত্তিক সেই হিসেব প্রভৃতি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এরবাইরে প্রাক্তন এমএসভিপি শিলিগুড়ি ও কোচবিহারে দু’টি সরকারি কোয়ার্টার ভোগ করেছেন। সেটা পারেন কি না, এই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকার কপি, হাউস রেন্ট কি হতো প্রভৃতি তথ্যও সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। 
প্রসঙ্গত, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি ছিলেন ডাঃ রাজীব প্রসাদ। এরআগে তিনি সংশ্লিষ্ট কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালও ছিলেন। বর্তমানে তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। তিনি অবশ্য বলেন, নিয়ম বহির্ভূত কাজের অভিযোগগুলির কোনওটাই ঠিক নয়। স্বাস্থ্যদপ্তরের নিয়ম মেনেই হাসপাতাল পরিচালনা করেছিলাম। কোনও অনিয়ম করিনি। আর নিয়ম অনুসারেই দু’টো কোয়ার্টার পেয়েছি। একটা আমার ও আর একটা স্ত্রীর নামে ছিল। কাজেই ভিজিল্যান্স কমিশনের তদন্ত নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। তদন্তকে আমি স্বাগত জানাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ