নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: টাকা নেওয়ার ভাইরাল ভিডিওর তদন্ত চেয়ে পুলিশ ও বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করলেন আইনজীবী।
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: টাকা নেওয়ার ভাইরাল ভিডিওর তদন্ত চেয়ে পুলিশ ও বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করলেন আইনজীবী।
কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) ভাইরাল হয়। সেখানে করণদিঘির তৃণমূল বিধায়ক গৌতম পালকে কাটমানি নিতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। জেলা আদালতের ওই আইনজীবী অভিযোগকারী মনতোষ সরকারের বক্তব্য, করণদিঘির বিধায়কের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাঁকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ নিতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও বিধায়ককে এনিয়ে কোনও প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। তাই দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়ে অভিযোগ করেছি রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার, করণদিঘি থানার পুলিশকে। বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছেও ইমেল করেও অভিযোগ জানিয়ে ভাইরাল ভিডিওর তদন্ত করার দাবি জানিয়েছি।
আইনজীবীর আরও অভিযোগ, বিধায়কের স্ত্রী এসসি না হয়েও সেই সংরক্ষণকে কাজে লাগিয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে বর্তমানে উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে আসীন। এব্যাপারে করণদিঘির বিধায়ককে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
তবে, তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, বিধায়কের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি চক্রান্ত করে এআই প্রযুক্তি দিয়ে বানানো। ভোটের আগে পরিকল্পনা করে এটা ইমেজ নষ্ট করার একটা চেষ্টা।
কানাইয়ার কথায়, ভাইরাল ভিডিওয় স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে বিএডিপি কাজের কথা বলা হচ্ছে। সেই প্রকল্প অনেকদিন আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কার্যত একই সুর করণদিঘি ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুভাষ সিনহার গলায়। তাঁর দাবি, ভোটের আগে বিধায়কের রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করতে মুর্শিদাবাদের একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দিয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর ছবি এবং কন্ঠস্বর বিকৃত করা হয়েছে। যে চেয়ারে বিধায়ককে দেখানো হয়েছে, সেটিতে তিনি বসেন না। প্রযুক্তির মাধ্যমে কারসাজি করতে গিয়ে বিএডিপি ফান্ডের কাটমানি নেওয়ার কথা ভিডিওতে বলা হয়েছে। কিন্তু সেই ফান্ড প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ। তাই যে তথ্যের ভিত্তিতে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেটি নির্ভরযোগ্য নয়। টেবিলে যে টাকা রাখা আছে, সেটি কে দিচ্ছে সেটাও স্পষ্ট নয়। ওই টাকা বর্তমান বিধায়কের নিজস্ব হতে পারে। কারণ টাকাটি অন্য কাউকে তাঁর দেনাপাওনা মেটানোর জন্য রেখে কথা বলতে পারেন। যা তিনি প্রায়ই করেন। আর যে বিএডিপি ফান্ডের কথা ভিডিওতে বলা হচ্ছে, ওই সময় গৌতম বিধায়ক ছিলেন না। তাই এআই প্রযুক্তি নির্ভর ওই ভিডিও দিয়ে ছবি এবং কন্ঠস্বর বানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিধানসভা নির্বাচনে রোখা যাবে না। • গৌতম পাল।