সংবাদদাতা, মানবাজার: খালি গায়ে বিষধর কালাচ নিয়ে খেলছেন এক ব্যক্তি! আবার কখনও সেই সাপ গলায় জড়িয়ে দেখাচ্ছেন কেরামতি। সমাজ মাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হতেই বরাবাজারের বড়দহ গ্রামের মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলকে (মৃতন) সতর্ক করল বন দপ্তর। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’।
পাশাপাশি শনিবার মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে একটি কালাচ সাপ উদ্ধার করে জঙ্গলে ছেড়ে দেন বরাবাজার রেঞ্জের কর্মীরা। পুরুলিয়ার কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাতো বলেন, সাপ ধরা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এনিয়ে বন দপ্তরের তরফে প্রচার করা হয়। আগামীদিনে এলাকায় প্রচার করা হবে। বরাবাজারের রেঞ্জ অফিসার হীরক সিনহা জানান মৃত্যুঞ্জয়কে অফিসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাবাজার থানার বড়দহ গ্রামের মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলকে মৃতন বলেই ডাকেন পাড়ার সবাই। ঠাকুর, দেবতা নিয়ে থাকতে ভালোবাসেন তিনি। পাশাপাশি সাপও ধরেন ওই যুবক। কোথাও সাপ বের হলে খবর পাওয়া মাত্রই সেই সাপ উদ্ধার করে ছেড়ে দেওয়া তার নেশা বলা চলে। সেই মৃত্যুঞ্জয়েরই ভিডিও সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই শনিবার কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের বরাবাজার রেঞ্জের কর্মীরা মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ি যান। ওই ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়। তার থেকে একটি কালাচ সাপ উদ্ধারও করেন বনকর্মীরা।
স্থানীয় বন দপ্তরের এক কর্মী জানান, অনেক সময় দেখা যায় ভাইরাল হওয়ার নেশায় প্রশিক্ষণ ছাড়াই অনেকে সাপ ধরছেন। এতে দুর্ঘটনাও ঘটছে। কোনও যন্ত্র ছাড়া খালি হাতে সাপ ধরা তো বিপজ্জনক। ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, ওই যুবক খালি হাতে সাপ নিয়ে কেরামতি দেখাচ্ছে! যদিও মৃত্যুঞ্জয়ের দাবি, ভাইরাল হওয়ার জন্য নয়। সাপের প্রতি ভালোবাসার টানেই তিনি না কি সাপ ধরেন ও জঙ্গলে সেগুলিকে ছেড়ে দেন।
স্থানীয়দের কথায়, অনেক সময় কারও বাড়িতে সাপ বের হলে বিপদে পড়তে হয়। সেই সময় ফোন করেও বনকর্মীদের পাওয়া যায় না। তখন খবর যায় মৃত্যুঞ্জয়ের কাছে। যেখানে গোখরো, কালাচের মতো বিষধর সাপকে স্টিক দিয়েও ধরতে ভয় পান সবাই, সেখানে ওই যুবক খালি হাতে তা সপাটে ধরে ফেলেন।
মৃত্যুঞ্জয়ের দাবি, তিনি সাপ খুবই ভালোবাসেন। এই জন্য কোথাও সাপ বের হলে লোকে মারতে উদ্যত হলে ত্রাতা হিসেবে তিনি সেখানে যান। সেই সাপ উদ্ধার করে জঙ্গলে ছেড়ে দেন। ভাইরাল হওয়ার নেশা তার নেই। একান্তই ভালোবাসার টানে একাজ করেন তিনি।