বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: প্রায় চার মাস পর বাংলাদেশে পুশব্যাক হওয়া সোনালি বিবির মুখ দেখলেন বাবা ভোদু শেখ। ভিডিও কলের মাধ্যমে মেয়েকে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না ষাটোর্ধ্ব ভোদু শেখ। বাবাকে দেখে কেঁদে ফেললেন সোনালিও। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছেন সোনালিরা। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর কেন্দ্রীয় সরকার গর্ভবতী সোনালি ও তাঁর নাবালক ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম। এখন মেয়ে ও নাতির বাড়ি ফেরার আশায় দিন গুনছেন বৃদ্ধ বাবা।
গত ২৬জুন দিল্লি পুলিস দুই পরিবারের ছ’জনকে জোর করে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। পাইকরের দানিশ শেখ ও তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী সোনালি বিবি ও তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে সাবির শেখকে সেদেশে পাঠানো হয়। এছাড়া মুরারইয়ের ধীতোরা গ্রামের সুইটি বিবি ও তাঁর দুই সন্তান বছর পনেরোর কুরবান শেখ ও পাঁচ বছরের ইমাম শেখকে পুশব্যাক করা হয়। দানিশ ও সুইটি বিবি দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে রোহিনী বাঙালি বস্তিতে ভাঙাচোরা সামগ্রী কেনাবেচার কাজ করতেন। অভিযোগ, ভোটার কার্ড, আধার সহ যাবতীয় প্রমাণপত্র দেখানো সত্ত্বেও তা যাচাই না করেই শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলায় তাঁদের জোর করে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দিল্লি পুলিশ। বাংলাদেশে জেলে ঠাঁই হয় তাঁদের। যা নিয়ে সোচ্চার হয় রাজ্য সরকার ও পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানো ছ’জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিল। ভারতীয় প্রমাণ হওয়ায় বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ আদালতও সেদেশে ভারতীয় হাই কমিশনকে তাঁদের ভারতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু কোনও উদ্যোগ নেয়নি কেন্দ্র। মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। গত ২৫নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ছ’জনকেই ভারতে ফিরিয়ে আনতে হবে। গত সোমবার বাংলাদেশ আদালত স্থানীয় ফারুক আলির জিম্মায় সোনালিদের জামিন মঞ্জুর করে। বর্তমানে তাঁরা ফারুকের বাড়িতেই রয়েছেন। সেখানে রয়েছেন সামিরুলের প্রতিনিধি মফিজুল শেখ। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর ফোন থেকেই ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবার সঙ্গে কথা বলেন সোনালি। ভোদু সাহেব বলেন, চার মাস পর মেয়ের মুখ দেখলাম। মেয়ের চোখ-মুখ কালো হয়ে গিয়েছে। মেয়েকে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। মেয়েও কেঁদে ফেলেছে। শীঘ্রই বাড়ি ফিরবে বলে জানিয়েছে। মফিজুল বলেন, এদিন ওদের আদালতে হাজিরার কথা ছিল। কিন্তু সোনালির পেটে ব্যথা হওয়ায় যেতে পারেনি। আদালতকে জানিয়েছি। পরবর্তী হাজিরার দিন রয়েছে ২৩ডিসেম্বর।
ফারুকের বাড়িতে বাংলাদেশ পুলিশ ও গোয়েন্দারা এসে খোঁজখবর নিয়ে যাচ্ছে। কোথাও যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সোনালিও জানিয়েছে, বৈধভাবেই দেশের মাটিতে ফিরতে চান। বুধবার সামিরুল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ তাঁদের পক্ষেই রায় দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সোনালি ও তাঁর নাবালক ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, সোনালির বাবা ভাবতীয় হলে তাঁকে বাংলাদেশি বলার কোনও ভিত্তি নেই। কেন্দ্রীয় সরকার সোনালিকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও আদালত তা খারিজ করে বাবার বাড়িতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারকে সোনালির চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। সোনালির যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রশাসন ও সিএমওএইচকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবার সঙ্গে কথা বলছেন বাংলাদেশে পুশব্যাক হওয়া সোনালি বিবি ও তাঁর নাবালক ছেলে। -নিজস্ব চিত্র