Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘দাদার অনুগামী’দের জয়যাত্রা, জেলা কমিটিতে ব্রাত্য আদিরা

পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির পুরনো দিনের একঝাঁক নেতার পদ কেড়ে দাদার অনুগামীদের জয়যাত্রা শুরু হল। মঙ্গলবার তমলুক সাংগঠনিক জেলার পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

‘দাদার অনুগামী’দের জয়যাত্রা, জেলা কমিটিতে ব্রাত্য আদিরা
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির পুরনো দিনের একঝাঁক নেতার পদ কেড়ে দাদার অনুগামীদের জয়যাত্রা শুরু হল। মঙ্গলবার তমলুক সাংগঠনিক জেলার পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে দাদার অনুগামীদের রকেট গতির উত্থান নিয়ে দলের ভিতর ঝড় বইতে শুরু করেছে। মণ্ডল কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেই তৃণমূল থেকে আসা প্রাক্তন প্রধানকে সরাসরি জেলা সহ সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। সেজন্য দীর্ঘদিনের একজন সহ সভাপতিকে ছেঁটে ফেলতে হয়েছে। গোটা কমিটিতে দাদার অনুগামীদের দাপট অব্যাহত। বুধবার মেচেদায় বুথ লেভেল এজেন্টদের কর্মশালা ছিল। পদ খোয়ানো এবং গুরুত্বহীন হয়ে পড়া নেতারা সেখানে যাননি। এনিয়েই দলের ভিতর গুঞ্জন অব্যাহত।

Advertisement

নন্দকুমার ব্লকে সাওড়াবেড়িয়া জালপাই-২ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূলের প্রধান ভবেশ বর্মণ ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে বিজেপিতে যোগ দেন। ভবেশবাবু দলে আসার পর পার্টির কোনও পদে ছিলেন না। মঙ্গলবার প্রকাশিত তালিকায় তাঁকে জেলা সহ সভাপতি করা হয়েছে। পার্টিতে তাঁর রকেট গতির উত্থান নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। কারণ, বুথ কমিটি, মণ্ডল কমিটির পদাধিকারী না হয়ে সরাসরি জেলা সহ সভাপতি হওয়াটা অনেকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। ভবেশবাবুকে দলে পদ দিতে গিয়ে জীমূত মাইতির মতো নন্দকুমারের আদি বিজেপির সহ সভাপতিকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
১৯৯১ সাল থেকে বিজেপি করছেন হলদিয়ার পীযূষ বারিক। তিনিও দলের সহ সভাপতি ছিলেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত তালিকায় তাঁরও নাম নেই। তাঁর জায়গায় সহ সভাপতি হয়েছেন আনন্দময় অধিকারী। জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি দাদার অনুগামী হিসেবে বিজেপিতে যোগ দেন। মহিষাদলের বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাও পদ খুইয়েছেন। অথচ, ২০২১ সালে তিনি মহিষাদল বিধানসভার প্রার্থী ছিলেন। জেলা সহ সভাপতির পদ খুইয়েছেন ওই নেতা। আরও আশ্চর্যজনক হল, ময়নার আশিস মণ্ডলের পদ খোয়ানো। জেলা সহ সভাপতি আশিস লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত। তমলুক পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতাও। তিনি তমলুক লোকসভার সংসদ সদস্য অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। তবে, ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দার সঙ্গে তাঁর সাপে-নেউলে সম্পর্ক। ময়না বিধানসভায় বিধায়ক শিবিরকে চাপে রাখতে অভিজিৎবাবুকে হাজির করিয়ে সভা সমিতি করতেন। দলের মধ্যে গোষ্ঠী রাজনীতির শিকার হয়ে তিনি পদ খুইয়েছেন বলে তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি করছেন।
ময়নায় দাদার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গৌতম গুরুর গুরুত্ব বেড়েছে। তাঁকে জেলা সহ সভাপতি করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের নেতা প্রলয় পাল আবারও দলের জেলা সহ সভাপতি। একই ব্লক থেকে সহ সভাপতি হয়েছেন পবিত্র কর। পবিত্র কর বয়াল-১ পঞ্চায়েতের তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন। দাদার অনুগামী হিসেবে দলে এসেছেন। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে মেঘনাদ পালের মতো নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে পবিত্র করকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। পার্টিতে পবিত্র করের গুরুত্ব বৃদ্ধিতে এর আগে ফুঁসে উঠেছিলেন প্রলয়। বুধবার তিনি বলেন, পার্টিতে একাধিক পদে রাখা হয়েছিল। সেজন্য প্রতিবাদ করেছিলাম। এখন পার্টি যা ভালো মনে করেছে তাই করেছে। জেলা সহ সভাপতির পদ খোয়ানো হলদিয়ার পীযূষ বারিক বলেন, ৩৪ বছর বিজেপি করছি। অনেক ঝড়ঝাপটা সহ্য করেছি। এখন পার্টি আমাকে সরিয়ে দিয়েছে। যেটা ভালো মনে করেছে তা করেছে। প্রকাশ্যে এনিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।
জেলা সভাপতি মলয় সিংহ বলেন, পুরনো, নতুন সকলকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনিয়ে কারও ক্ষোভ আছে বলে এখনও খবর পাইনি। - প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ