নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্বভারতীতে ‘কনফ্লুয়েনস’ শীর্ষক শিল্প-শিক্ষা সম্মেলন শুরু হল। বিশ্বভারতীর লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে দু’দিনের এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বহু শিল্প সংস্থার প্রতিনিধির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশনের চেয়ারম্যান টিজি সীতারাম সহ বিশিষ্টরা। এদিনের সম্মেলনে বিশ্বভারতীর বিভিন্ন উন্নয়নে শিল্প সংস্থাগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। তবে, এই সম্মেলন পড়ুয়াদের প্লেসমেন্টে কতটা দিশা দেখাতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বরং বিশ্বভারতীর প্লেসমেন্ট সেলকে আরও সক্রিয় করার দাবি জানিয়েছেন পড়ুয়ারা।
দেশ তথা বিশ্বের শিক্ষাঙ্গনে কীভাবে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলে রয়েছে বিশ্বভারতী, বৃহস্পতিবার সম্মেলনে নিজের উদ্বোধনী বক্তৃতায় সেই কথাই তুলে ধরেন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। তাঁর বক্তব্যের ছত্রেছত্রে ছিল বিশ্বভারতীর সাফল্যগাথা। বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, বিশ্বভারতীতে বিশ্বমানের ফ্যাকাল্টি রয়েছে। রয়েছে সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতা। বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা আজ দেশে-বিদেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিশ্বভারতী ওয়ার্ড লিভিং হেরিটেজের তকমাও পেয়েছে। শুধু তাই নয়, সামাজিক প্রকল্পেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বভারতী। সমাজের তৃণমূল স্তরের ক্ষমতায়নেও বিশ্বভারতীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। উপাচার্য বলেন, আমরা ৬৫টি গ্রাম দত্তক নিয়েছি। একশোর বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। গ্রাম উন্নয়ন সোসাইটি, রুরাল কমিউনিটি লাইব্রেরি, মহিলা সমিতিও রয়েছে।
তবে বিশ্বভারতীর একার পক্ষে এইসব কাজ যে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন, এদিন উপস্থিত শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন উপাচার্য। তিনি জানান, আমরা হেরিটেজ তকমা পেয়েছি। কিন্তু তার রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আমাদের যে স্টেডিয়াম রয়েছে তা অতটাও উন্নতমানের নয়। সাহায্য পেলে আরও ভালো করে সাজিয়ে তুলে ব্যবহার করতে পারি। বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা নিজেদের হাতে যে সমস্ত শিল্পকলা তৈরি করছেন কিংবা গবেষকরা নিরলস প্রয়াসে যা কিছু আবিষ্কার করছেন তা বাজারজাত করার জন্য শিল্প সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন উপাচার্য। অন্যদিকে, শিক্ষাক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কীভাবে ভারত এগিয়ে চলেছে, সেই কথা শোনা যায় সুকান্ত মজুমদারের মুখে। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় ভারতের অবস্থান ক্রমশই উর্ধ্বমুখী। কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।
তবে, এই শিল্প শিক্ষা সম্মেলনে ইন্টার্নশিপ এবং প্লেসমেন্ট কতটা হবে, প্রথম দিনের সম্মেলনে সেই দিশা মেলেনি। এনিয়ে সংশয়ে রয়েছেন পড়ুয়ারাও। যদিও বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, আজ, শুক্রবার পড়ুয়াদের সঙ্গে শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিদের মুখোমুখি সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই সেইসব বিষয়ে আলোচনা হবে। আশা করছি প্লেসমেন্টও হবে। যদিও তৃণমূলের বিশ্বভারতীর ছাত্রনেতা শুভদীপ দে বলেন, প্লেসমেন্ট কিংবা ইন্টার্নশিপের বিষয়ে কোনও প্রচারই নেই কর্তৃপক্ষের। যাঁদের জন্য এত আয়োজন, তাঁরাই যদি এব্যাপারে না জানেন তাহলে আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। সেইসঙ্গে বিশ্বভারতীর প্লেসমেন্ট সেলকেও সক্রিয় হতে হবে। পড়ুয়াদের দাবি, বিশ্বভারতীর প্লেসমেন্ট সেল রয়েছে, কিন্তু একেবারেই নিষ্ক্রিয়। কর্তৃপক্ষকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। আশ্বাস মিলেছিল। কিন্তু বিশেষ কিছুই হয়নি।