নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কল্যাণীর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিসিকেভি) ‘এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগের পড়ুয়ারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কারণ এই বিষয় নিয়ে পড়ে এ রাজ্যে সরকারি চাকরির আশা নেই বললেই চলে। কারণ ব্লক ভিত্তিক সংশ্লিষ্ট পদের জন্য নিয়োগ নেই রাজ্যে। যদিও ব্লকভিত্তিক নিয়োগ যাতে হয়, তার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দরবার করছেন উপাচার্য। রাজ্যে কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কল্যাণীর বিসিকেভি। দীর্ঘদিন ধরেই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এই বিষয়ের পড়ুয়াদের চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘ব্লক এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ার’। মূলত ব্লকে ব্লকে কৃষির উন্নতি ও আধুনিকীকরণের জন্যে দেশের অনেক রাজ্যেই রয়েছে ‹এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ার› পদ। কিন্তু বঙ্গে এহেন পদ কোনওকালেই ছিল না এবং আজও নেই। ফলে দীর্ঘ পড়াশোনার পর ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে সন্দিহান পড়ুয়ারা। বিসিকেভি সূত্রে জানা গিয়েছে, চার বছরের এই বিটেক ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের জন্য এক একটি বর্ষে ৩৫ থেকে ৪০টি করে সিট রয়েছে। বর্তমানে চার বর্ষ মিলিয়ে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা শতাধিক। কিন্তু রাজ্যে এখনও ব্লকভিত্তিক নিয়োগ চালু না হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কিত তাঁরা। এ যাবত নিয়োগের দাবিতে একাধিকবার বিক্ষোভ-আন্দোলনও নজরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। তৃতীয় বর্ষের অনিমেষ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা চাই ব্লকভিত্তিক নিয়োগ দ্রুত চালু করা হোক আমাদের রাজ্যে। তার জন্য প্রয়োজনীয় ডাইরেক্টরেট তৈরি হোক। আমরা বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি জানিয়ে আসছি। না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী এই বিষয়ে লেখাপড়া করে? রুপম মণ্ডল বলেন, আমরা এই দাবিতে বারবার আন্দোলন করেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনও দিশা দেখাতে পারেনি। অন্য রাজ্যে চাকরির জন্য আমরা কেন যাব? আমাদের রাজ্যেই তো এই পদ চালু হওয়ার কথা। রাজ্যস্তরের এক কৃষিকর্তা বলেন, কৃষি পরিকাঠামোর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করে এমন কোম্পানিতে এই ধরনের পদের চাহিদা রয়েছে। চাকরির ক্ষেত্রও অনেকটাই। রাজ্যেও ব্লকভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ নিশ্চয়ই হবে।



