নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রকৃত চাষিরা যাতে সরকারের কাছে ধান বেচতে পারেন তার জন্য একাধিক স্তরে যাচাইয়ের ব্যবস্থা করেছে খাদ্যদপ্তর। এই প্রক্রিয়া ইতিবাচক হলেই কোনও চাষি নথিভুক্ত হবেন। তখনই তিনি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট পাবেন এবং সরকারের কাছে ধান বেচতে পারবেন। যাতে কোনও ফড়ে চাষির নাম ভাঁড়িয়ে সরকারের কাছে ধান বেচতে না পারে তার জন্যই এই সতর্কতা। নতুন ধান ওঠার সময় জোগান বেশি থাকে। তখন খোলাবাজারে ধানের দাম কমে যায়। সরকার যে ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্যে (এমএসপি) ধান কেনে তার দাম খোলাবাজারের থেকে সাধারণত বেশি হয়। এই পরিস্থিতির ফায়দা নেওয়ার জন্য ফড়েরা কম দামে চাষির কাছ থেকে ধান কিনে তা সরকারের কাছে বেচার চেষ্টা করে। এই অসাধুতা ঠেকাতেই সক্রিয় খাদ্যদপ্তর।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে রাজ্যে ধান কেনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। কীভাবে ধান কেনার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে তার বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করেছে খাদ্যদপ্তর। তাতে চাষিদের নাম নথিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। অনলাইন বা অফলাইনে নথিভুক্ত করার জন্য চাষিদের আধার, ভোটার কার্ড (এপিক), মোবাইল নম্বর এবং জমির নথি দিতে হবে। আধার যাচাই করা হবে ইউআইডিএআই পোর্টাল দিয়ে। এপিক যাচাই করা হবে কৃষকবন্ধু পোর্টালে। ওটিপি পাঠিয়ে মোবাইল নম্বরটিও যাচাই করা হবে। জমির নথি যাচাই করবে ভূমিদপ্তর। ধান বিক্রির টাকাও জমা পড়বে চাষির কেবলমাত্র যাচাই করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। অ্যাকাউন্টে গলদ থাকলে খাদ্যদপ্তর তা চাষিকে জানাবে এবং সেইমতো সংশোধন ও যাচাই করতে হবে। অনলাইনে ধান বিক্রির দিন নির্দিষ্ট হওয়ার পর থেকে অ্যাকাউন্টে কোনোরকম পরিবর্তন চলবে না।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একজন চাষি গোটা মরশুমে ৯০ কুইন্টাল ধান বেচতে পারবেন। তবে তিনি ঠিক কতটা ধান বেচতে পারবেন, তা ঠিক হবে জমির নথির ভিত্তিতে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জমিতে ধানের উৎপাদন হার সংক্রান্ত তথ্যাদি কৃষিদপ্তরের মাধ্যমে নেওয়া হবে। ফড়েরা যাতে ছোটো চাষির নামে বেশি পরিমাণে ধান সরকারের কাছে বেচতে না-পারে তার জন্যই এই সতর্কতা।