নিউ ইয়র্ক: ব্রুটাস, তুমিও...! বিশ্বস্ততমের ছুরির ঘায়ে অবাক হয়েছিলেন জুলিয়াস সিজার। নিকোলাস মাদুরোও কি একইরকম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র শিকার? সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই রিপোর্টে দাবি, ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ‘নির্বিঘ্নে’ জালে তুলতে মার্কিন গোয়েন্দাদের মাসের পর মাস গোপনে তথ্য সরবরাহ করে গিয়েছিলেন তাঁরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো ক্যাবেলো। কড়া নিরাপত্তাবলয়কে ঠুঁটো করে মাদুরোকে সস্ত্রীক তাঁর বাসভবন থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে মার্কিন বাহিনী। নির্বিঘ্নে সেই অভিযান সম্ভব হয়েছে ক্যাবেলোর দেওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই। সেই কারণে টের পায়নি কাকপক্ষীও। শুধু তাই নয়, ক্যাবেলোর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই যোগাযোগ এখনও অক্ষুণ্ণই রয়েছে। মার্কিন সরকারের একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই দাবি করেছে রয়টার্স।
৩ জানুয়ারি আমেরিকার আচমকা অভিযানে সস্ত্রীক বন্দি হন মাদুরো। কিন্তু মার্কিন আক্রমণ সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার বাহিনীগুলিকে বিন্দুমাত্র সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। রয়টার্সের রিপোর্টে দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ক্যাবেলোই তাঁর অধীনে থাকা গোয়েন্দা, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীগুলিকে ঠুঁটো করে রেখেছিলেন। রিপোর্টে দাবি, মাদক পাচার ইস্যুতে নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে একই মার্কিন অভিযোগপত্রে নাম ছিল ক্যাবেলোরও। মাদুরোর মতো তাঁর উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হলেও একই অভিযোগ থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রয়েছেন বহাল তবিয়তেই। আর এই জায়গাতেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ তত্ত্ব জোরালো হয়েছে। একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টটিতে দাবি, ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভূমিকার নেপথ্যে ছিল মার্কিন আধিকারিকদের হুমকি। নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই আমেরিকা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে—গোপনে তথ্য দিন, নাহলে ফল ভুগতে হবে। সেই হুঁশিয়ারির মাধ্যমেই ক্যাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয় বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। এমনকি, মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ক্যাবেলোকে ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন। আর সেই লক্ষ্যেই তাঁর সঙ্গে গড়ে ওঠা যোগাযোগ এখনও অব্যাহত। মাদুরো-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্যাবেলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী সমস্যার সৃষ্টি করুক, চায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। জটিলতা এড়াতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের হাত থেকে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ বেরিয়ে যাক, তা চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঘটনাচক্রে, ক্যাবেলো ইতিমধ্যেই রড্রিগেজের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের রণনীতি বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রড্রিগেজ যদি চালিকাশক্তি হন, তাহলে তূণের আসল অস্ত্র হলেন ক্যাবেলো। রয়টার্সের রিপোর্টটি প্রকাশ্যে আসার পর অবশ্য ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার বিবৃতি প্রকাশ করে এই ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্বকে খারিজ করেছে।