নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: পার্কিং জোন তৈরি নিয়ে ফের জটিলতা আরামবাগ শহরে। তার জেরে বিভিন্ন যানবাহন ফের রাস্তাতেই দাঁড়াচ্ছে। আরামবাগ চাঁপাডাঙা রাজ্য সড়কের একটি লেনের একাংশ দখল হয়ে থাকায় তা সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়ছে। তার জেরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। মাসকয়েক আগে পার্কিং জোনের ব্যবস্থা করা হলেও বর্তমানে তা উঠে গিয়েছে। তাই নতুন করে বাইক সহ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও এব্যাপারে আরামবাগ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মমতা মুখোপাধ্যায় বলেন, জায়গা চিহ্নিত করে পার্কিং জোন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু উৎসবের মরশুমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অসুবিধার সৃষ্টি হবে বলে আপত্তি আসায় সাময়িকভাবে তা উঠেছে। পুজোর ছুটি কাটিয়ে পুরসভা খুললে ফের এই ব্যাপারে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ শহরে পার্কিং জোনের সমস্যা দীর্ঘদিনের। নির্দিষ্ট পার্কিং জোন না থাকায় যত্রতত্র অবৈধভাবে গাড়ি দাঁড় করাতে চালকরা বাধ্য হন। এক্ষেত্রে আরামবাগ চাঁপাডাঙা ফোরলেন রাস্তার লিঙ্ক রোড এলাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। একাধিক ব্যাঙ্ক, শপিং মল সহ নানা প্রতিষ্ঠানের সামনে নিত্যদিন অবৈধ পার্কিং দেখা যায়। বিশেষত দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাস্তার একাংশে যানবাহন দাঁড়িয়ে যায়। তারজেরে যানজটের সমস্যা হয়। যদিও আরামবাগ থানার তরফে প্রতিটি মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু, তারপরেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা কাটেনি। চালকদের একাংশের দাবি, লিঙ্ক রোডের একাংশে কার্যত রাস্তার উপরেই বাইক সহ নানা যানবাহন পার্কিং করে রাখায় চলাচলে অসুবিধা হয়। তাই দ্রুত পার্কিং জোনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, মাসকয়েক আগে বসন্তপুর মোড় সংলগ্ন এলাকায় পার্কিং জোনের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে বাইক সহ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে আর পার্কিং জোন নেই। ফলে যত্রতত্র চলে পার্কিং বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আরামবাগ শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতেই পার্কিংয়ের সমস্যা রয়েছে। বাজারেও নিত্যদিন যানজটে নাকাল হতে হয়। একইসঙ্গে শহরের লিঙ্ক রোডেও পরিকল্পনা মাফিক পার্কিং জোন নেই। পার্কিং জোনের চেষ্টা হলেও দূরে বাইক রেখে বিভিন্ন কাজ করা খুবই অসুবিধাজনক। তাই এব্যাপারে পুরসভা, প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি পুলিশ প্রত্যেকদিন গুরুত্ব সহকারে দেখে। অবৈধ পার্কিং রুখতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পার্কিং জোনের পরিকাঠামো গড়ার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।