সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: দীর্ঘদিন ধরেই রঘুনাথগঞ্জের মিয়াপুরে ব্যস্ত রাস্তাজুড়ে বসছে সব্জি বাজার। ফলে বাজার চলাকালীন যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়েন বাসিন্দারা। রাস্তাজুড়ে বাজার বসায় যাতায়াতের রাস্তাও সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। এমনকী, বাজার শেষে বর্জ্যের দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে যেতে হয় পথচারীদের।
বহু বছরের পুরনো জঙ্গিপুর স্টেশন সংলগ্ন এই মিয়াপুরের বাজারটি। সেই বাজার ঘিরেই চলে স্থানীয়দের নিত্য কেনাবেচা। রাস্তায় বাজার বসায় খদ্দেরদেরও রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করতে হয়। এদিকে পাশেই জুরুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, রেলস্টেশন ও জঙ্গিপুর লালগোলা রাজ্য সড়ক। এই পথে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে থাকে। যানজটে নাকাল হতে হয় এলাকাবাসীকে। এলাকাবাসী চাইছেন বাজারটিকে অন্যত্র সরিয়ে কোনও ফাঁকা স্থানে নিয়ে যাওয়া হোক।
জরুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইয়াকুব আলি বলেন, অফিসের সামনের রাস্তায় বাজার বসায় খুব সমস্যা হয়। প্রয়োজনে অফিসে আসা কর্মী ও সাধারণ মানুষকে যানজটে পড়ে নাকাল হতে হয়। পাশেই ভিতরে মাছ বাজার রয়েছে, খদ্দের পেতে বিক্রেতারা রাস্তায় বসে পড়ছে। প্রতিদিন বাজারের আবর্জনায় রাস্তাঘাট নোংরা হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৩০ বছরের পুরনো এই সব্জি বাজারটি। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সেই বাজার ঘিরেই ছিল স্থানীয়দের নিত্য কেনাবেচা। মিয়াপুরের বাসিন্দা বেলাল শেখ বলেন, বাজারটি ছিল বেশ খানিকটা ভিতরে। আগে রাস্তায় বাজার বসত না। গুটি কয়েক দোকান বসত ফুটপাতে। কয়েকটি মুদির দোকান, আলু-পেঁয়াজ, আনাজ, মাছ-মাংসের একাধিক দোকান বসত মাছ বাজারের ভিতরে ও স্টেশন যাওয়ার রাস্তায়। অন্য এক বাসিন্দার বক্তব্য, এখন বাজারের ভিতরে মাছের বাজার রয়েছে। আর কয়েকটি মুদিখানা ও চা, পান ও সেলুন রয়েছে। মাছের বাজারের খদ্দের পেতে বিক্রেতারা ধীরে ধীরে রাস্তায় বসতে শুরু করে। ফলে জঙ্গিপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের যাওয়ার আগে দেউলি, কানুপুর যাওয়ার রাস্তার উপরেই চলে কেনাবেচা।
সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই বাজারটিকে বার কয়েক অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে প্রশাসন। সম্প্রতি কিছুটা দূরে বাজারটিকে সরিয়ে একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে খদ্দের না যাওয়ায় আবার রাস্তায় বসে পড়ে। বিক্রেতা অতুল দাস বলেন, এখান থেকে কতবার অন্যত্র নিয়ে যাওয়া চেষ্টা হয়েছে। অন্য জায়গায় খদ্দের যেতে চায় না। ফলে আমরাও এভাবে রাস্তায় বসতে বাধ্য হচ্ছি।
বাজারের মালিক শত্রুঘ্ন সরকার বলেন, বহুবার বলা সত্ত্বেও বিক্রেতারা রাস্তায় বসে পড়ছে। তাতে যানবাহন ও পথচলতি মানুষ সকলেরই সমস্যা হয়। পুলিসকে বললে খুবজোর দিন দুয়েক রাস্তা ছেড়ে বসে। তারপর আগের অবস্থানে ফিরে আসে। পুরোপুরি তাদের উচ্ছেদ ও করে দেওয়া যায় না, বেকার ছেলেমেয়ের রুজিরোজগারের বিষয় জড়িয়ে রয়েছে।