নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সরকারি নিয়ম মেনে পালপাড়া কলেজে গভর্নিং বডি তৈরির নির্দেশ দিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক কর। গত ২৯ এপ্রিল উপাচার্য, রেজিস্ট্রার জয়ন্তকিশোর নন্দী এবং কলেজ পরিদর্শক অভিজিৎ রায়চৌধুরী এই ইস্যুতে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে যোগদা সৎসঙ্গ পালপাড়া মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল প্রদীপ্তকুমার মিশ্র, পরিচালন কমিটির সম্পাদক শীতলচন্দ্র দে ছিলেন। এছাড়াও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতা আবেদ আলিও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয় পক্ষের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভর্নিং বডি তাদের মতামত শোনেন। তারপর উপাচার্য সরকারি নির্দেশ মেনে গভর্নিং বডি তৈরির নির্দেশ দেন।
এপ্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর পালপাড়া কলেজে গভর্নিং বডি তৈরির জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট এবং দুই সরকারি প্রতিনিধির নামও পাঠানো হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ওই কমিটিতে মনোনীত সদস্যের নাম পাঠানো হয়। কিন্তু, সেই নির্দেশ মেনে কমিটি গড়া হয়নি। পরবর্তীতে যেসব কলেজে নতুন করে কমিটি গড়া হয়নি সেইসব কলেজে পুরনো কমিটিকে প্রতি ছ’মাস অন্তর মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত অর্ডার করেছিল উচ্চশিক্ষা দপ্তর। পালপাড়া কলেজ দ্বিতীয় ওই নির্দেশিকা অনুসরণ করে। কিন্তু, তাদের সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী নতুন কমিটি গড়তে হবে।
যোগদা সৎসঙ্গ পালপাড়া কলেজে গভর্নিং বডি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ২০২২ সালে ১৬ মার্চ উচ্চশিক্ষা দপ্তর ওই কলেজে নতুন গভর্নিং বডি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে পটাশপুরের বিধায়ক উত্তম বারিক এবং দুই সরকারি মনোনীত সদস্য হিসেবে পটল আদক ও দেবব্রত পণ্ডার নাম ছিল। যদিও নতুন গভর্নিং বডি গড়া হয়নি। ওই কলেজ সোসাইটি পরিচালিত। তবে, রিলিজিয়াস মাইনোরিটি হিসেবে স্বীকৃতি নেই। সরকারি পোষিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতোই এখানকার প্রত্যেক কর্মীর মাইনে সরকার দেয়। সরকারি অর্থে কলেজের উন্নয়ন হয়। তারপরও কেন সরকারি নির্দেশিকা মেনে নতুন গভর্নিং বডি করা হয়নি এনিয়েও সরব হয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।
দীর্ঘদিন ধরে ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আছেন সৎসঙ্গ সোসাইটির স্বামী অচ্যুতানন্দ গিরি মহারাজ। সম্পাদক সোসাইটির আর এক কর্মকর্তা শীতলচন্দ্র দে। নতুন কমিটি না গড়ে পুরনো কমিটিকে প্রতি ছ’মাস অন্তর রিনিউ করা হচ্ছিল। এই কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মহকুমা শাসক এবং উপাচার্যের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। উপাচার্য বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। সেইসঙ্গে সরকারি নির্দেশ মেনে গভর্নিং বডি গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা আবেদ আলি বলেন, রাজ্য সরকারের সমস্ত সুযোগ সুবিধা নেওয়া সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ রাজ্যের নির্দেশিকা মানেনি। সোসাইটিকে ঢাল করে পুরনো কমিটি প্রতি ছ’মাস অন্তর মেয়াদ বাড়িয়ে নিচ্ছিল। এই ঘটনায় আমরা প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলাম।
বর্তমান গভর্নিং বডির সম্পাদক শীতলবাবু বলেন, আমাদের কলেজে গভর্নিং বডি অন্যান্য কলেজের মতো নয়। এই কলেজ আশ্রম পরিচালিত। প্রিন্সিপালের পরিবর্তে আশ্রম মনোনীত ব্যক্তি গভর্নিং বডির সম্পাদক এবং ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার(ডিডিও) হিসেবে কাজ করেন। গত ২ এপ্রিল আমাদের গভর্নিং বডির সভা ছিল। ছাত্র সংগঠনের একাংশ সেই সভা ভণ্ডুল করে দিয়েছে।