Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর আগেই আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে মেদিনীপুরের বিভিন্ন রাস্তা ও সেতু

সন্ধ্যা নামতেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায় চারপাশ। রাস্তায় যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটত।

পুজোর আগেই আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে মেদিনীপুরের বিভিন্ন রাস্তা ও সেতু
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: সন্ধ্যা নামতেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায় চারপাশ। রাস্তায় যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটত। তবে এবার মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখে মেদিনীপুর পুরসভার উদ্যোগে পুজোর আগে রাস্তায় বসানো হচ্ছে আলো। শহরের প্রতিটি ছোট - বড় রাস্তায় আলো বসানো হবে। আর এতে খরচ হবে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যেই আলো লাগানোর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকদের মত, বিশেষ করে শহরের সেতুগুলো ছাড়াও ছোট রাস্তা আলোকসজ্জায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে। এরফলে বিভিন্ন এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ কমবে। একইসঙ্গে নদী ঘাট, পুকুর পাড় ঢেলে সাজাবে পুরসভা। জানা গিয়েছে, পুরসভার বেশকিছু ওয়ার্ড এলাকা থেকে আলো নিয়ে নানা অভিযোগ আসছিল। তাই প্রায় এক বছর আগে থেকে গ্রীন মিশন প্রকল্প চালু করা হয়। এই প্রকল্পে কোটি টাকার বেশি খরচ করে শহর সাজানোর কাজ হবে। এদিন মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, পুরসভা একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করেছে। গোটা শহর সাজানো হবে। আপতত শহরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে মানুষের সমস্যা না হয়। গোটা কাজটাই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে হচ্ছে। পুজোর সময় মানুষের আর অসুবিধা হবে না। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভা এলাকার কংসাবতী নদীর ঘাটগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শহরের ১, ২, ৫, ১৭, ১৮, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড সহ বেশকিছু ওয়ার্ড এলাকায় আরও বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুরসভা এলাকার কোনও পার্ক, বা শিশুউদ্যান থাকলে তাও সাজিয়ে তোলার কাজ করবে পুরসভা। তবে আলোর সমস্যার সমাধানে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরে বড় হাইমাস্ট লাইটের সংখ্যা ৬টি। এছাড়াও লো হাইমাস্ট লাইটের সংখ্যা ১৯৬টি। একইসঙ্গে ১৪ হাজার ৩০০টি লাইট পোস্ট রয়েছে। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরে সৃজন পল্লি, বিবেকানন্দ পল্লি, শরৎপল্লি, বামুনপাড়া, সূর্যনগর, বিদ্যাসাগর পল্লি, নজরগঞ্জ, হরিজন পাড়া, নিবেদিতা পল্লি, ধর্মা এলাকার কিছু গলিতে পর্যাপ্ত আলোর সমস্যা রয়েছে। এরফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। পুরসভা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, বাম আমলে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকত। কোথাও কোথাও ছোট পুরোনো দিনের বাল্বের আলোর উপর ভরসা করতে হতো। ২০১২ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। শহরের গান্ধী ঘাট সহ বিভিন্ন এলাকায় সৌন্দর্যায়নের কাজ হয়েছে। কিন্তু আগেও বহু এলাকায় পুরসভা আলো লাগিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেই সমস্ত আলো খারাপ হলে , পুরসভা আর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। অর্থাৎ বিভিন্ন ওয়ার্ড এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপক গাফিলতিও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শিশু উদ্যান বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সমীর নিয়োগী বলেন, পুরসভা খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। বহু এলাকা অন্ধকার হয়ে থাকে। এছাড়া শহরকে সাজিয়ে তুললে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে পর্যটকও আসবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ