Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর থিমে বাঙালির নানা গোয়েন্দা চরিত্র ও তাঁদের স্রষ্টা

রামপুরহাটের সুকান্তপল্লি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের দুর্গাপুজো সবে অষ্টম বর্ষে পা দিয়েছে

পুজোর থিমে বাঙালির নানা গোয়েন্দা চরিত্র ও তাঁদের স্রষ্টা
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটের সুকান্তপল্লি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের দুর্গাপুজো সবে অষ্টম বর্ষে পা দিয়েছে। তবে এর মধ্যেই শহরের ১৭নম্বর ওয়ার্ডের এই পুজো ভালো সাড়া ফেলে দিয়েছে। এবার পুজোর থিম ‘গোয়েন্দা চরিত্র ও তাঁদের সৃষ্টিকর্তা’। মণ্ডপে ঢুকে দর্শনার্থীদের মনে হবে, তাঁরা যেন একটি রহস্যভেদের অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এই ওয়ার্ডের তরুণ বদ্যিনাথ মুর্মু কলকাতার মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল টিমে সুযোগ পেয়েছেন। শনিবার পঞ্চমীতে তিনিই মণ্ডপের উদ্ধোধন করেন।

Advertisement

এবার থিমে বাঙালির গোয়েন্দা চরিত্রগুলিকে বেছে নিয়েছে এই পুজো কমিটি। ক্যানভাসে সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ ও তাঁর স্রষ্টা শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদাকে তুলে ধরা হয়েছে। সেইসঙ্গে সমরেশ বসু, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, অর্পিতা সরকার, দেবারতি মুখোপাধ্যায় সহ অসংখ্য বাঙালি গোয়েন্দা গল্পের লেখক ও তাঁদের সৃষ্টি তুলে ধরেছেন উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির সদস্য শৈলেশ দাস ও শুভজিৎ মণ্ডল বলেন, দর্শনার্থীরা রহস্যের জট ছাড়াতে ছাড়াতে মন্দিরে পৌঁছবেন। পুজো কমিটির সদস্যরাই এই থিমভাবনা ফুটিয়ে তুলেছেন। এলাকার মৃৎশিল্পী অক্ষয় কোনাই একচালার দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করেছেন।
প্রথম থেকেই এই পুজো ঘিরে সম্প্রীতির ছবি দেখা যায়। মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে পুজোর সামগ্রী জোগাড়-সবেতেই হাত লাগিয়েছেন আলম শেখ, শাহজাহান শেখ, রমজান শেখ, রেন্টু শেখ, হায়দার খান, রেণুকা মুর্মু, ইলিশ টুডু, উদয় হাঁসদা, শঙ্কর টুডু ও লজিত তুড়িরা। 
অন্যতম উদ্যোক্তা চয়ন মণ্ডল বলেন, সাহিত্য বাঙালির রক্তে মিশে রয়েছে। কঠিন সমস্যার মধ্যেও আশা না ছেড়ে সত্য উন্মোচনের চেষ্টার বার্তা দেয় গোয়েন্দা চরিত্ররা। নবীন প্রজন্মের অনেকেই গোয়েন্দা বলতে শার্লক হোমস অথবা জেমস বন্ডকে চেনে। কিন্তু, বাংলা সাহিত্যে ফেলুদা, কাকাবাবু, ব্যোমকেশ সহ নানা চরিত্র রয়েছে। সেটাই আমরা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি।
পুজো কমিটির সভানেত্রী মিতা মুখোপাধ্যায় ও সম্পাদিকা মৌসুমি চৌধুরী বলেন, মহিলা পরিচালিত পুজো হলেও স্থানীয় পুরুষরা চাঁদা তোলা, মণ্ডপসজ্জা ও পুজোর আয়োজনে অংশ নেন। আমাদের মণ্ডপে ঢুকলেই মনে হবে, বইয়ের নানা গোয়েন্দা চরিত্র যেন দর্শনার্থীদের সামনে জীবন্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুজোর ক’টা দিন খুব আনন্দ হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ