Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

কাপড়ের গয়নায় বৈচিত্র

কস্টিউম জুয়েলারিতে এত বৈচিত্র্য আমাদের দেশ ছাড়া কোথাও পাবেন না, জানালেন এক বেসরকারি জুয়েলারি মেকিং সংস্থার কর্ণধার মিলি রায়।

কাপড়ের গয়নায় বৈচিত্র
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কস্টিউম জুয়েলারিতে এত বৈচিত্র্য আমাদের দেশ ছাড়া কোথাও পাবেন না, জানালেন এক বেসরকারি জুয়েলারি মেকিং সংস্থার কর্ণধার মিলি রায়। কাপড়, কাগজ, লেদার, স্টোন, বিডস, কাঠ, কাচ সব পাবেন আমাদের দেশের গয়নায়। তাই সেগুলো রঙিন এবং ট্রেন্ডি। কাপড়ের গয়নার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত সুতির কাপড়েরই চাহিদা বেশি জুয়েলারি মার্কেটে। এই ধরনের গয়না যাঁরা বানান তাঁরা বলেন, সুতির কাপড় দিয়ে তৈরি গয়না টেকসই আর মজবুত। তাই এই ফ্যাব্রিক দিয়ে বানানো গয়নার চাহিদাই বেশি। তাছাড়া গয়নার এই ধরনটি বানানোও সহজ। টান পড়লে ছিঁড়ে যায় না, স্টিচ করলে তা ভালো ধরে। আঠা লাগালেও সুন্দর আটকে যায়। সব কিছুই সুতির ফ্যাব্রিককে গয়নার মার্কেটে জনপ্রিয় করেছে। এই গয়নারই কয়েকটি ধরন বিষয়ে জানালেন মিলি।

Advertisement

ট্রেন্ডি কটন
এটা গয়নার একটা ধারা। যে ফ্যাব্রিকের পোশাক যখন চলছে তখন গয়নাতেও সেই ট্রেন্ড চলে। যেমন আজরাখ প্রিন্ট যখন খুব ট্রেন্ডিং ছিল তখন গলার পেনডেন্ট, হাতের মোটা বা সরু চুড়ি সবই ওই ফ্যাব্রিক দিয়ে বানানোর চল হয়েছিল। আবার টাই অ্যান্ড ডাই যখন বাজার মাত করেছিল তখন সেই ফ্যাব্রিকের গয়নাও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একইভাবে কটন চান্দেরি প্রিন্টেড গয়না, মধুবনী প্রিন্টেড কটন ফ্যাব্রিকের গয়না, শিবরী প্রিন্টের ফ্যাব্রিক জুয়েলারি, বা ইন্ডিগো ফ্যাব্রিকের গয়না সবই বিভিন্ন সময় ফ্যাশন ট্রেন্ডে বাজারে ছেয়ে গিয়েছে। আবার কিছু কাপড়ের ডিজাইন রয়েছে যেগুলো চিরকালীন। কখনওই পুরনো হয় না। যেমন ব্লক প্রিন্ট, ফ্লোরাল প্রিন্ট ইত্যাদি।
হ্যান্ড পেন্ট 
আর একটি ধরনও ফ্যাব্রিকের গয়নায় খুব জনপ্রিয়, হ্যান্ড পেন্ট। আর এক্ষেত্রেও সুতির চাহিদাই বেশি। সুতির উপর রং তুলি দিয়ে আঁকলে তা সহজে বসে, জানালেন মিলি। সেই কারণেই সুতির কাপড় হ্যান্ড পেন্টেড জুয়েলারির ক্ষেত্রে জনপ্রিয়। এই গয়নায় মধুবনী পেন্ট, যামিনী রায় স্টাইল যেমন জনপ্রিয় তেমনই অ্যাবস্ট্র্যাক্ট পেন্ট, জিওমেট্রিক শেপ পেন্ট ইত্যাদিরও চাহিদা রয়েছে। তবে হ্যান্ড পেন্টের ক্ষেত্রে ফ্লোরাল সবচেয়ে বেশি চলে। তার একটা কারণ এগুলো সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানানসই। ফ্লোরাল পেন্ট একটু বড় ও বোল্ড স্টাইলে আঁকা হলে ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে তা মানায় ভালো। ছোট ফ্লোরাল ডিজাইন এথনিক ওয়্যারের সঙ্গে ভালো যায়।
পোশাকের ধরন
কোন পোশাকের সঙ্গে কেমন ফ্যাব্রিকের গয়না মানাবে তা সম্পূর্ণই নির্ভর করে তার নকশার উপর, জানালেন মিলি। তাঁর কথা অনুযায়ী, ‘বোল্ড নকশা, অ্যাবস্ট্রাক্ট ডিজাইন ইত্যাদি ওয়েস্টার্ন পোশাক, যেমন জিন্স টপ, ফ্রক, স্কার্ট ইত্যাদির সঙ্গে বেশি খাপ খায়। আবার যামিনী রায়, মধুবনী ইত্যাদি ভারতীয় পোশাকের সঙ্গে মানানসই। ফ্যাব্রিকের গয়নার কিছু ধরন আছে যেগুলো শাড়ির পক্ষে আদর্শ। ধরুন পেনডেন্টে যদি গণেশ জননী, কুলো, শঙ্খ ইত্যাদি থাকে তাহলে তা শাড়ির সঙ্গে খুবই ভালো লাগে। এছাড়া একটু লম্বাটে কার বা বিডসের মালার সঙ্গে ঝোলানো বড় পেনডেন্ট ও ম্যাচিং কানের দুলও ইন্ডিয়ান পোশাকের সঙ্গে মানানসই। শাড়ির ক্ষেত্রে বড় পেনডেন্ট আর ম্যাচিং বালা বা চুড়ি হলেই চলে। কানের দুল তখন তেমন প্রাধান্য পায় না।
নানারকম স্টাইল
হাঁসুলি, বল অ্যান্ড বিডস, চোকার ইত্যাদি নানা ধরনের নকশা এখন কাপড়ের গয়নার ক্ষেত্রে খুবই জনপ্রিয়। একটা সময় ছিল যখন কাপড়ের গয়না বলতে শুধু বড় পেনডেন্ট, ম্যাচিং দুল আর বালা ঝোঝাত। কিন্তু স্টাইলের বদল এবং পোশাকের বদলের সঙ্গেই কাপড়ের গয়নার নকশাতেও বদল এসেছে। ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে মানানসই নকশা নিয়ে আসা হয়েছে। যেমন লম্বা সরু কাঠির মতো স্টিক ডিজাইন চোকার তৈরি হচ্ছে এখন কাপড় দিয়ে। তার সঙ্গে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে লাগানো হচ্ছে পার্ল, বিডস ইত্যাদি। এতে একদম পাশ্চাত্যের একটা চেহারা নিচ্ছে গয়না। এই স্টিক ডিজাইনে নানা রকম ফ্যাব্রিকের ব্যবহার করা হয়। তাতে জিনিসটা আরও রঙিন হয়ে ওঠে।
এছাড়াও আছে ইন্ডিগো ফ্যাব্রিকের চোকার বা হাঁসুলি। এই গয়নাগুলোর সঙ্গে মিরর ওয়ার্ক জনপ্রিয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে এতে একটু ওয়েস্টার্ন লুক আনতে ইন্ডিগো চোকারের সঙ্গে রাইস পার্ল গেঁথে হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কম্বিনেশনের অন্যরকম ডিজাইন তৈরি করা হয়। কাপড়ের সঙ্গে মেশান বড় একটা সেন্টারপিস স্টোন। অ্যাসিমেট্রিক স্টোন পেনডেন্ট গয়নাকে করে তোলে একেবারে ওয়েস্টার্ন। একইভাবে কড়ি, কাচ, পুতি ইত্যাদি দিয়ে গয়নায় একটা ইন্ডিয়ান স্টাইল আনেন ডিজাইনাররা। 
কমলিনী চক্রবর্তী    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ