পক্ষে
পক্ষে
বিহু ঘোষ
সরস্বতী পুজো হল বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে, প্রেমদিবস। এদিন মনের মানুষের সঙ্গে ঘোরার অঘোষিত ছাড়পত্র রয়েছে। অন্য সময় প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে বেরলে পরিচিত কেউ দেখে ফেলার ভয় থাকে। এদিন প্রেমে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। বাসন্তী শাড়ি আর পাঞ্জাবির মিছিল রাস্তাজুড়ে। মনের মানুষের সঙ্গে কাটানো এই দিনটি যেন রূপকথা।
ছাত্রী
গৌতম দত্ত
ছোটবেলায় ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বলে কিছু জানতামই না। ওটা যে প্রেমের দিন বলে আখ্যায়িত তা ৪০-এর পর জেনেছি। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামে এক উৎসব সারা পৃথিবী জুড়ে যেভাবে থাবা বসিয়েছে তাতে বাঙালির সরস্বতী পুজোর দিনের প্রেমে পড়া কি একটুও কমেছে? সেই কুড়ি বছর বয়স থেকে দেখে আসছি, আমিও বাদ যাইনি। ট্র্যাডিশনে একটুও ভাটা পড়েনি। সরস্বতী পুজো মানেই অনেক স্বাধীনতা, বাড়ির বাধা না পাওয়া এক বাঁধনছাড়া দিবস, প্রেমদিবস। বাঙালি সেই সুখ কি কর্পোরেট ব্যবস্থায় আদৃত ১৪ ফেব্রুয়ারি পেতে পারে?
অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী
নীলেশ নন্দী
অনেকেই ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বদলে সরস্বতী পুজোর দিনটিকে বাঙালির প্রেমদিবস বলেন। যে কোনো শুভ কাজে দেব-দেবীর আশীর্বাদ থাকলে তা সফল হয়, একথা স্মরণ করে বহু মানুষ এই দিনটিকে বেছে নেন প্রেমের দিন হিসেবে। তাছাড়াও ভালোবাসা মানে বসন্তের প্রথম স্পর্শ। তাই বসন্ত পঞ্চমী, অর্থাৎ সরস্বতী পুজোর সঙ্গে প্রেমের নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। স্কুল-কলেজের বহু ছেলেমেয়ের প্রথম প্রেমের হাতেখড়িও হয় সরস্বতী পুজোর দিনে।
লেখক
বিপক্ষে
সংযুক্তা মুখোপাধ্যায়
ভ্যালেন্টাইনস ডে মানে ভালোবাসার দিন। আমার মতে ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোনো দিন হয় না। সব দিনই নিজের ভালোবাসার মানুষের জন্য নিবেদন করা যেতে পারে। আর সরস্বতী পুজো মানে বাগদেবীর আরাধনা। তিনি বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী। তাঁর পুজোর সঙ্গে অনুরাগের কোনো যোগ নেই। ফলে প্রেমের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করতে চাইলে ভ্যালেন্টাইনস ডে-ই ভরসা। ইংরেজি দিবস হলেও বাংলাতেও তার গুরুত্ব কিছু কম নয়।
ছাত্রী
সাবিত্রী জানা ষন্নিগ্রহী
১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে— এটাই প্রচলিত ধারণা। তবে বছরের যে কোনো দিন উদযাপন করতেই পারেন। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটির একটি ইতিহাস রয়েছে। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভালোবাসা, প্রেম, অনুরাগ। আর সরস্বতী তো বিদ্যার দেবী। তাই তাঁর পুজোর দিনটিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা প্রেমদিবস বললে একটু বেমানান লাগে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা
শরদিন্দু দাস
ভ্যালেন্টাইনস ডে বিদেশি ঐতিহ্য হলেও বাঙালিরা এটাকে যথেষ্ট আপন করে নিয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে যারা নিজেদের সবথেকে প্রিয় বন্ধু বন্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়, তারা সরস্বতী পুজোর দিনটিকেই প্রেমদিবস হিসেবে মানে। প্রিয়জনের সঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া, সিনেমা দেখা— সব মিলিয়ে আনন্দময় হয়ে ওঠে এই দিনটা।
ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র
বিদ্রোহী রায়
বাঙালি পার্বণপ্রিয়। দুটো পার্বণকে একত্রে জুড়ে দিলে তা বাঙালির ধাতে সইবে না। আমে-দুধে মিশিয়ে পেটে চালান করা গেলেও, সরস্বতী আর ভ্যালেন্টাইন-এর ককটেল ব্রেনে ঢোকানো কঠিন। সেখানে দুটোর খোপ আলাদা আলাদা। আজকাল সরস্বতী পুজোর ‘কচি’ প্রেম, শাঁসে-জলে ‘পাকা’ হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে। ‘বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বলে আজ আর কিছু নেই।
চিকিৎসক
শ্রবণা পাল
ভ্যালেন্টাইনস ডে মূলত প্রেম ও রোমান্টিক সম্পর্কের উদ্যাপন, আর সরস্বতী পুজো বিদ্যা, জ্ঞান, শিল্প ও সংস্কৃতির আরাধনা। দু’টির লক্ষ্য ও তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। একটিকে অন্যটির সমার্থক করলে সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সরস্বতী পুজোকে শুধুই প্রেমের দিনের বিকল্প হিসেবে দেখা হলে তার আধ্যাত্মিক ও শিক্ষামূলক গুরুত্ব আড়ালে পড়ে যায়। সব বাঙালি কিশোর-কিশোরী বা যুবক-যুবতী সরস্বতী পুজোকে প্রেমের উৎসব হিসেবে দেখে না। অনেকের কাছেই এটি শুদ্ধভাবে পড়াশোনা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি দিন।
ছাত্রী
১০০ শব্দের মধ্যে মতামত লিখে পাঠান [email protected] মেল আইডি-তে। সাবজেক্টে লিখবেন ‘তর্ক বিতর্ক’। পক্ষে না বিপক্ষে লিখছেন, উল্লেখ করবেন। শেষে লিখুন নিজের নাম ও পেশা। সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজ ছবি। ডাকযোগে বা ফোনে পাঠানো মতামত গ্রাহ্য হবে না। নির্বাচিত মতামত প্রকাশিত হবে। পরের পর্ব ২১ ফেব্রুয়ারি। বিষয়: ‘ভাষা দিবসের ইতিহাস এখন অনেকেরই অজানা, হুজুগে ভাসে উদ্যাপন’ আপনাদের মতামত পাঠান
১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।