নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সরকারি প্রকল্পের জন্য উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হাঁসের বাচ্চা জোগান দিয়ে নজির গড়েছে বীরভূম জেলা। উত্তরের জেলাগুলির চাহিদার সিংহভাগই এই জেলা থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধুমাত্র সরবরাহের ক্ষেত্রেই নয়, হাঁস প্রজননেও এই জেলা সন্তোষজনক জায়গায় রয়েছে। সুস্থ পরিবেশে যথেষ্ট সংখ্যায় হাঁসের বাচ্চার জন্ম হচ্ছে। জন্মের ২৮ দিনের মাথায় হাঁসের বাচ্চাগুলি উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ডেপুটি ডিরেক্টর তুহিন চক্রবর্তী বলেন, হাঁস প্রজনন খুবই সন্তোষজনক জায়গায় রয়েছে। এই খামার থেকেই জেলা সহ উত্তরবঙ্গের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
Advertisement
জেলা প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, রাজ্যের উদ্যোগে ২০২২ সালে জেলায় রাজ্য হাঁস প্রজনন খামার অর্থাৎ স্টেট ডাক ব্রিডিং ফার্ম গড়ে উঠেছে। প্রায় ৩৫ একর জমির ওপর আনুমানিক ২২ কোটি টাকা খরচে লাভপুর ব্লকের সেকমপুরে সেই খামার গড়ে উঠেছে। এই খামারের মূল লক্ষ্য হাঁসের প্রজনন। এখানে মূলত ‘খাকিক্যাম্বেল’ প্রজাতির হাঁসের প্রজনন করা হয়। সেই কাজ ক্রমশ গতি পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে সেখানে প্রতি সপ্তাহে আনুমানিক সাড়ে ১০ হাজার হাঁসের বাচ্চা জন্ম নিচ্ছে। পরবর্তীতে ‘ব্যাকইয়ার্ড পোল্ট্রি ফার্মিং থ্রু ডিস্ট্রিবিউশন অব চিকস /ডাকলিংস টুইন ডিভিজুয়াল বেনিফিশিয়ারি’ প্রকল্পের চাহিদা অনুসারে হাঁসের বাচ্চাগুলি বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো। মূলত সেকমপুরের এই খামারে জন্ম নেওয়া হাঁসের বাচ্চা উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুদুয়ার, কোচবিহার সহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এছাড়াও চাহিদা অনুসারে জেলার বিভিন্ন প্রান্তেও সেই হাঁসের বাচ্চা পাঠানো হয়ে থাকে। পরে নির্দিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সেই হাঁসের বাচ্চাগুলি উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মূলত, গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যেই হাঁসের বাচ্চা তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষ ও যথেষ্ট উপকৃত হচ্ছেন। তার অনেকটাই কৃতিত্ব সেকমপুরের এই খামারের।



