নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: আবারও বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল জলপাইগুড়িতে। দলের নয়া রাজ্য সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েও দ্বিধাবিভক্ত কর্মীরা। দলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন শমীক ভট্টাচার্য। বিমানে বাগডোগরায় নেমে সড়কপথে শিলিগুড়ি হয়ে আলিপুরদুয়ারে যান তিনি। পথে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর পরিকল্পনা করেন জলপাইগুড়ির বিজেপি কর্মীরা। আর এখানেই স্পষ্ট হয়ে যায় গেরুয়া শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।
এদিকে, উত্তরবঙ্গে পা রেখেই তৃণমূল কংগ্রেসকে বিসর্জনের ডাক দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বাগডোগরা বিমানবন্দরে বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মানুষের লড়াই। উত্তরবঙ্গের মানুষ আগেই তৃণমূলকে বিদায় দিয়েছেন। এবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষ বিসর্জন দেবেন। বঞ্চিত অবহেলিত উত্তরবঙ্গকে নিয়ে যারা কাঁদছিলেন, তাঁরা কার্যত উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। রাজ্যে যে উত্তরকন্যা তৈরি হয়েছে, তার বাজেটে জল গরম করা যায় না। আগামী ২১ জুলাই উত্তরকন্যা অভিযান হবেই।
অন্যদিকে, শমীককে শুভেচ্ছা জানাতে একদল কর্মী জড়ো হন জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ে। অন্যদল, যাঁরা মূলত বিক্ষুব্ধ বিজেপি হিসেবে পরিচিত, তাঁরা দাঁড়ান হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের নয়া ভবনের সামনে। দু’জায়গাতেই রাজ্য সভাপতির গাড়ি দাঁড়ায়। প্রাক্তন জেলা সহ সভাপতি অলোক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা শমীকের হাতে মুখবন্ধ খাম তুলে দেন। সঙ্গে প্রতীকী হিসেবে দেন সাদা কাগজ।
চিঠির সঙ্গে সাদা কাগজ কেন? অলোক চক্রবর্তী বলেন, এখানে দলের হাল খুবই খারাপ। জেলায় যদি দলকে বাঁচাতে হয়, তাহলে খোদ রাজ্য সভাপতিকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। সেকারণে প্রতীকী হিসেবে চিঠির সঙ্গে সাদা কাগজ দিয়েছি। ওই কাগজে এখন লেখার ভার সভাপতির। যদিও এদিন শমীকের দাবি, কর্মীরা বার্তা দিয়েছেন, তাঁরা এক হয়ে ছাব্বিশের ভোটে সরকার বদলাবেন।
জলপাইগুড়িতে বিজেপিতে ‘বেনোজল’ ঢুকে গিয়েছে বলেও এদিন তোপ দাগেন দলের প্রাক্তন সহ সভাপতি। তাঁর তোপ, কখনও বিজেপি নেতা দলের কোনও নেতাকে প্রকাশ্যে লাথি মারছেন, আবার কখনও নেত্রী রাতের অন্ধকারে তৃণমূল নেতার গাড়িতে মদ্যপানের পার্টি করছেন, সেই ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতারা তাই এখানে দলে ‘শুদ্ধিকরণের’ দাবি তুলেছেন।
সন্ধ্যায় আলিপুরদুয়ারে আসেন শমীক। আজ, মঙ্গলবার কোচবিহারে যাবেন। আলিপুরদুয়ার শহরে ঢোকার মুখে বীরপাড়া চৌপথি থেকে দলীয় কর্মীরা বাইক মিছিল করে দলের রাজ্য সভাপতিকে কলেজ রোডে একটি বেসরকারি ভবনে নিয়ে আসেন। রাজ্য সভাপতিকে সংবর্ধনা দেন। রাতে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন পদ্মপার্টির রাজ্য সভাপতি। জলপাইগুড়িতে শমীক ভট্টাচার্য। - নিজস্ব চিত্র।