নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: গত বছর অভূতপূর্ব ব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও উত্তর দিনাজপুর জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় দু’একটি অবাঞ্ছিত ঘটনা আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছিল। মাধ্যমিক পরীক্ষায় হলে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গিয়েছিল। যা নিয়ে পুলিশে অভিযোগ জানাতে গিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা পরিচালকদের অসুবিধায় পড়তে হয়। এবছর তেমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে মাধ্যমিক পরীক্ষার অন্তত দু’মাস আগে একাধিক পদক্ষেপের কথা জেলায় এসে জানিয়ে গেলেন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। গতবারের ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য জেলার শিক্ষক মহল ও প্রশাসনকে একাধিক নির্দেশিকা ও নিয়মের বার্তা শুনিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতবার গোয়ালপোখরের নন্দঝাড় আদিবাসী তফসিলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন চার জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে টোকাটুকির। যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। একাধিক কারণে প্রাথমিকভাবে ওই ঘটনা নিয়ে পরীক্ষা পরিচালকদের জিডি করতেও অসুবিধা হয়। তাই যাতে এবার তেমন সমস্যা না হয় সেব্যাপারে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনকে সুনির্দিষ্টভাবে বার্তা দেন পর্ষদ সভাপতি। মাধ্যমিক পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে জেলায় জেলায় ঘুরছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি। কথা বলছেন জেলার আধিকারিক ও শিক্ষকদের সঙ্গে। শুক্রবার তিনি উত্তর দিনাজপুর জেলায় আসেন। দু’দফায় জেলা প্রশাসন এবং জেলার শিক্ষক মহলের সঙ্গে দু’টি বৈঠক সারেন রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। একটি জেলাশাসকের দপ্তরে যেখানে জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা উপস্থিত ছিলেন এবং দ্বিতীয়টি কর্ণজোড়া অডিটোরিয়ামে।
এদিন সন্ধ্যায় কর্ণজোড়ায় বৈঠক শেষে পর্ষদ সভাপতি বলেন, গতবার খুব ভালো ব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষা পরিচালিত হয়। মাধ্যমিকের ফলাফলও চমকপ্রদ হয়েছে। এবারও মাধ্যমিক পরীক্ষা আরও ভালো হবে বলে আশা রাখছি। আমরা মূলত বিগত বছরের পরীক্ষার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে বৈঠক করেছি। গতবার মাধ্যমিকে জেলায় পরীক্ষা চলাকালীন কয়েকটি মোবাইল ফোন ধরা পড়েছিল। সেসময় পুলিশের কাছে ঘটনাটি নিয়ে জিডি করতে অসুবিধা হয়। সেটা আমরা প্রশাসনকে বলেছি। আমরা বলেছি জেলার ন’টি ব্লকে সেন্টার কমিটির বৈঠকের আয়োজন করতে। যার নেতৃত্ব দেবেন সংশ্লিষ্ট বিডিওরা। তাতে ব্লক স্তরে স্কুল ও সরকারি আধিকারিকরা এবারের বিধিনিষেধ সম্পর্কে জানতে পারবেন। পরীক্ষা ব্যবস্থাটাকে ধারাবাহিকভাবে আমরা এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছি যাতে, জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা হিসাবে মাধ্যমিকের স্মৃতি যেন নতুন প্রজন্মের পরীক্ষার্থীদের কাছে সুমধুর হয়ে থাকে।
সেই সঙ্গে পর্ষদ সভাপতি নকল রুখতেও হুঁশিয়ারিও দেন। তাঁর কথায়, পরীক্ষাপর্বে সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। যাঁরা সেই ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করবে তার জন্য আমরা যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, নেব। তবে যাইহোক মাধ্যমিক পরীক্ষা পরিচালনায় উত্তর দিনাজপুর জেলা বিগত তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করছে। তারজন্য উত্তর দিনাজপুর জেলাকে তিনি ‘ফ্রন্ট রানার’ বলেও সন্তোষ প্রকাশ করেন। এদিন পর্ষদ সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, পর্ষদের সচিব সুব্রত ঘোষ, জেলার মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শক সহ কনভেনার, যুগ্ম কনভেনররা। জানা গিয়েছে প্রাথমিকভাবে জেলায় এবার ১০১টি পরীক্ষা কেন্দ্র হবে। সর্বমোট মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারের বেশি। যার মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে গতবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মেধা তালিকায় থাকা প্রথম স্থানাধিকারী আদ্রিত সরকার সহ কয়েকজন পড়ুয়াকে সংবর্ধনা দেন পর্ষদ সভাপতি।