শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: পর্দায় তাঁর হাসি দেখে মন গলেছে বাঙালির। সংলাপের ওঠানামা, চোখের চাহনি, চুলের ছাঁট কিংবা সুচিত্রার সঙ্গে রোম্যান্স— উত্তমকুমার মানেই বাংলা ছবির এক স্বর্ণযুগ। মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এবার পুজোর মণ্ডপেই খুলছে স্মৃতির জানালা। বারাসতের সতীন সেন পল্লি নতুনপুকুর রোডে বারাসত সংগঠনী ক্লাবের ৪৬ তম বর্ষের নিবেদন মহানায়ককে ঘিরেই। মণ্ডপে পা রাখলেই একের পর এক দৃশ্যে ফিরে আসবে উত্তমকুমারের অভিনয়জীবন। শৈশবের পারিবারিক ছবি থেকে রুপোলি পর্দার অবিস্মরণীয় মুহূর্ত— ধরা থাকবে নানা অধ্যায়।
শাপমোচন, অমানুষ, থেকে নায়ক-এর মতো ছবির স্মৃতি উসকে দেবে দর্শকের নস্টালজিয়া। ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানে বাইকে উত্তম-সুচিত্রার রোম্যান্টিক দৃশ্য থেকে ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘জীবন তৃষ্ণা’ এবং শেষ ছবি ‘ওগো বধূ সুন্দরী’র মুহূর্তও থাকছে। আলো-শব্দের মেলবন্ধনে শোনা যাবে মহানায়কের কণ্ঠে সংলাপ ও গান। সঙ্গে থাকছে তাঁকে নিয়ে সাড়ে তিন মিনিটের তথ্যচিত্র। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ৫১ নম্বর আহিরীটোলা স্ট্রিটে মামারবাড়িতে জন্ম উত্তমকুমারের। পুজো কমিটির সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী বলেন, মহানায়কের অভিনয়, বাচনভঙ্গি, চুলের ছাঁট ও ভুবনভোলানো হাসিতে মিশে ছিল বাঙালিয়ানা। জন্মশতবর্ষে সেই আবেগকেই মণ্ডপে তুলে ধরার চেষ্টা। মাতৃপ্রতিমায় থাকছে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। আমরা উদ্বোধনে মহানায়কের পরিবারকে আমন্ত্রণ করেছি। পরিবারের কেউ এসেই আমাদের পুজোর উদ্বোধন করবেন।
অন্যদিকে, কাশফুলের দোল, শিউলির গন্ধ, মাটির উঠোন আর খড়ের চালের ঘর। শরতের নীল আকাশের নীচে এমনই এক চেনা বাংলার ছবি যেন জীবন্ত হয়ে উঠবে মধ্যমগ্রামের দেবীগড় বিজলীপার্কে। আধুনিকতার ঝলমলে আলোর ভিড়ে এ বার স্মৃতির পথ ধরে হাঁটতে চায় ৩৬তম বর্ষের এই দুর্গাপুজো। থিম– গ্রাম বাংলার পুজো। খড়ের চালের ঘরে মা দুর্গার আরাধনা। আয়োজনের পরতে পরতে থাকবে মাটির টান, শিকড়ের গল্প আর হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের মায়া। আজকের ব্যস্ত জীবনে গ্রামের সেই সহজ-সরল পুজোর ছবি যেন ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। পুজো মানে এক সময় ছিল ঘরের উঠোনে উৎসব, পাড়ার মানুষের মিলন, ঢাকের শব্দে মন কেমন করা আনন্দ। আর সেই চেনা দিনগুলিকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখছে বিজলীপার্ক। পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা সুদীপ্তা স্বর বলেন, খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরে দেবী দুর্গার আরাধনা শুধু একটি থিম নয়, বাংলার শিকড়ের কাছে ফিরে নিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ। প্রতিমাতেও থাকছে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। চেনা রূপে মা দুর্গাকে দেখার আনন্দের সঙ্গে গ্রাম বাংলার আবহ মিলেমিশে তৈরি করবে এক নস্টালজিক পরিবেশ। দর্শনার্থীদের মনে যেন ভেসে উঠবে ফেলে আসা দিনের স্মৃতি, মাটির গন্ধ মাখা বাংলার এক টুকরো ছবি।
মধ্যমগ্রাম দেবীগড় বিজলিপার্কের পুজোমণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র



