সুকান্ত বেরা, কলকাতা: ছিপছিপে চেহারা। ভদ্র, মার্জিত, লাজুক। ইস্পাত কঠিন মানসিকতা। ‘ডেভিড’এর হাতে বল মানেই বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের পা কাঁপা শুরু। বাংলাকে বছরের পর বছর একার কাঁধে টেনেছেন। তবে লবির জোর ছিল না। না হলে তিনটি ওডিআই নয়, অনায়াসেই প্রাক্তন বাঁ হাতি স্পিনার উৎপল চ্যাটার্জির নামের পাশে লেখা থাকত আরও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিসংখ্যান।
১৯৮৪-৮৫ মরশুমে রনজিতে অভিষেক। একটা সময় উৎপলকে ছাড়া বাংলার ক্রিকেট ভাবাই যেত না। প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তাঁর শিকার সংখ্যা ৫০৪। এই রেকর্ড বাংলার ক্রিকেট ইতিহাসে আজও অমলিন। ১৯৯৫ সালে দেশের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ। সেই ডেভিড তথা উৎপল চ্যাটার্জিকেই এবছর দেওয়া হতে পারে সিএবি’র জীবনকৃতি সম্মান। তালিকায় নাম রয়েছে বাংলার আরও এক প্রাক্তন ক্রিকেটার রাজা বেঙ্কটের। সিএবি সূত্রের খবর, এগিয়ে ডেভিডই। আগামী ২৬ আগস্ট সংস্থার অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠকে নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। মহিলাদের ক্রিকেটে এই পুরস্কারের জন্য পূর্ণিমা চৌধুরির সঙ্গে রুমেলি ধরের নামও চর্চায় রয়েছে।
দেশবন্ধু পার্ক থেকে পথ চলা শুরু উৎপলের। বাঁ হাতি জোরে বোলিং, সঙ্গে ভালো ব্যাটিং। ১৯৭৭ সালে নির্বাচিত হন বাংলা স্কুল দলে। টানা তিন বছর খেলার পরে অনুর্ধ্ব-২২ দলে ঢুকে পড়েন তরুণ তুর্কি। ক্লাব ক্রিকেট খেলেছেন অরোরা, কাস্টমস, মোহনবাগান,এরিয়ান, টালিগঞ্জ অগ্রগামীতে। উৎপল চ্যাটার্জিকে আবিষ্কার করেছিলেন কোচ পুলক বিশ্বাস। সেই সময়ে অ্যালান ডেভিডসনের সাথে তাঁর বোলিংয়ের প্রচুর মিল ছিল। পুলকবাবু আদর করে ছোট্ট উৎপলকে ‘ডেভিড’ বলে ডাকতেন। সেখান থেকে উৎপল হয়ে গেলেন ময়দানের ডেভিড।
কেরিয়ারের শুরুতেই মন ভেঙে গিয়েছিল উৎপলের। জোরে বোলার হওয়ার স্বপ্ন ধাক্কা খায় পিঠের ব্যথায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল, অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু সাহস কুলোয়নি তাঁর। বাধ্য হয়েই স্পিন বোলিং শুরু। কিন্তু কে জানত, একদিন সেই ছেলেটাই দুরন্ত ঘূর্ণিতে পাঁচশো উইকেটের মালিক হবে! অবসরের পরেও ক্রিকেটের সঙ্গে উৎপল চ্যাটার্জির সম্পর্ক অটুট। দেশবন্ধু পার্কে রয়েছে কোচিং সেন্টার। নানা সময়ে কোচের দায়িত্বও সামলেছেন। বাংলার ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের নিয়ে আলোচনা হলে অবধারিতভাবেই চলে আসে ডেভিডের নাম।