Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

দাদার মতো আগলে রেখেছে আনোয়ার ভাই: সন্দীপ মান্ডি

এমনিতে সাত চড়ে রা নেই। কিন্তু মাঠে এই ছেলেই ধানি লংকা। কড়া ট্যাকলে বিদেশি স্ট্রাইকারের পা ঝনঝনিয়ে ওঠে।

দাদার মতো আগলে রেখেছে আনোয়ার ভাই: সন্দীপ মান্ডি
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: এমনিতে সাত চড়ে রা নেই। কিন্তু মাঠে এই ছেলেই ধানি লংকা। কড়া ট্যাকলে বিদেশি স্ট্রাইকারের পা ঝনঝনিয়ে ওঠে। সন্দীপ মান্ডি মানেই ছাই চাপা আগুন। বড়ো দলে এই প্রথম। তবে কুয়েতের আল আরবি ম্যাচের পর ইস্ট বেঙ্গল ডিফেন্ডারকে নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে। অনেকদিন পর কোনও বঙ্গসন্তানকে নিয়ে জোর আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতামত, ছেলেটা লম্বা রেসের ঘোড়া। মাথা না ঘুরলে বহুদূর যেতে পারে। সন্দীপ অবশ্য পা মাটিতে রেখেই চলতে অভ্যস্ত। বললেন, ‘কোচ বলেছেন, ধারাবাহিকতা রাখাই আসল।’ 

Advertisement

শিল্পশহর কল্যাণীতেই সন্দীপের বেড়ে ওঠা। ফুটবল পরিবারে জন্ম। বাবা সুন্দর মান্ডিও ডিফেন্ডার ছিলেন। রেলওয়ে এফসি’র চাকরি না করলে বড়ো দলেও খেলতে পারতেন। কাকা সাগরাম মান্ডিকে নিশ্চয়ই মোহন বাগান সমর্থকরা ভোলেননি। চলতি মরশুমে ভবানীপুরে খেলছেন জেঠতুতো দাদা মদন মান্ডি। বাড়ির পাশেই থাকেন ইস্ট বেঙ্গলের প্রাক্তনী প্রভাত লাকরা। কাকা সাগরামের হাত ধরেই ডার্বি দেখা। মহারণের আবেগে ভেসে যাওয়া। মনে মনে শপথ নিয়েছিলেন বড়ো ম্যাচ খেলতেই হবে। ডুরান্ডের প্রথম ডার্বিতে ইস্ট বেঙ্গল হারলেও সন্দীপ প্রশংসা আদায় করে নিয়েছিলেন। আল আরবির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ে মুগ্ধ প্রাক্তনরাও। দীর্ঘদেহী বিদেশিদের বিরদ্ধে মাত্র একবারই ভুল করেছিলেন বঙ্গসন্তান। সেই পেনাল্টি থেকেই লিড নিয়েছিল কুয়েতের দলটি। যাই হোক, যুবভারতীতে ঐতিহাসিক ম্যাচের পর মাঠেই কেঁদে ফেলেছিলেন সন্দীপ। বললেন, ‘হয়তো মার্কিংয়ে কিছুটা ত্রুটি ছিল। ভুল থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। আনোয়ার ভাই দাদার মতো আগলে রাখে। বড়ো দলে এই ভরসার খুব দরকার।’ স্টপারের পাশাপাশি লেফট ব্যাকেও সাবলীল সন্দীপ। হাবাসের দলে তিনি এখন অটোমেটিক চয়েস।
কল্যাণী টু ময়দান। পেরিয়ে আসা অনেক স্টেশন। মহমেডান স্পোর্টিং থেকে ডায়মন্ডহারবার এফসি। তবে ম্যাচ টাইম পাচ্ছিলেন না। এরপর ইন্টার কাশীতে সই করেন সন্দীপ। কোচ আন্তোনিও হাবাসের নজর পড়তে দেরি হয়নি। এরপর স্প্যানিশ কোচের পরামর্শেই তাঁকে তুলে নেয় ইস্ট বেঙ্গল। গুরু হাবাসে অভিভূত বাঙালি ডিফেন্ডার। সন্দীপের ছোট্ট মন্তব্য, ‘কোচের আস্থার মর্যাদা দিতেই হবে।’ তরুণ ফুটবলারকে গড়েপিঠে নিতে চান হাবাসও। ডায়েট চার্টেও কড়া নজর তাঁর। মিষ্টি, মশলাদার খাবার একেবারে বন্ধ। সামনে কঠিন লড়াই। তবে সন্দীপ তৈরি। বাস্তবের কঠিন মাটিতে পা রেখেই আকাশে মাথা তুলতে চান ইস্ট বেঙ্গলে ‘দ্য ওয়াল।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ