ইস্ট বেঙ্গল-১ : ভবানীপুর-১
ইস্ট বেঙ্গল-১ : ভবানীপুর-১
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার সারাদিন মেঘ-রোদের লুকোচুরি। এক পশলা বৃষ্টির পরেই চড়চড়ে রোদে গলদঘর্ম কলকাতা। আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইস্ট বেঙ্গলের পারফরম্যান্সেও আলো- আঁধারির খেলা। ঘরোয়া লিগে পিছিয়ে পড়েও ভবানীপুরের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। শ্যামল বেসরার লক্ষ্যভেদে লিড নিয়েছিল রঞ্জন চৌধুরির দল। দর্শনীয় শটে গোল শোধ কেরালাইট ফুটবলার অনন্থুর। এদিনের পর গ্রুপ লিগে ৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত শীর্ষে রইল ভবানীপুরই। ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট ইস্ট বেঙ্গলের। উল্লেখ্য, গ্রুপের প্রথম তিনটি দল সুপার সিক্সের ছাড়পত্র পাবে।
গত ম্যাচে মোহন বাগানকে পরাস্ত করেছিল রঞ্জনের দল। ইস্ট বেঙ্গলকেও টেক্কা দিতে মরিয়া ছিল ভবানীপুর। ম্যাচ নিয়ে বেশ হাইপ তৈরি হয় ময়দানে। গোলশূন্য প্রথমার্ধে সাবধানী ফুটবল খেলল দু’দলই। ছন্নছাড়া ফুটবলে মাথা ধরার জোগাড়। এরইমধ্যে ৩৫ মিনিটে তন্ময়, মনোতোষ ওয়াল খেলার পর গোলের সুযোগ চলে এসেছিল বিলালের সামনে। কিন্তু ভবানীপুর গোলরক্ষক আদিত্য পাত্রকে হার মানাতে ব্যর্থ লাল-হলুদের স্ট্রাইকার। বিরতির পর ম্যাচটা জমিয়ে দিলেন শ্যামল বেসরা। গত বছর ইস্ট বেঙ্গল থেকেই ভবানীপুরে সই করেছেন তিনি। ৪৬ মিনিটে শ্যামলের বাঁ পায়ের শট জোসেফের মাথায় লেগে জাল কাঁপায় (১-০)। ঝিমিয়ে থাকা মশালবাহিনী এবার গা-ঝাড়া দিল। ৫২ মিনিটে ১-১। এক্ষেত্রে বিজয় মুর্মুর সেন্টার মনোতোষ নামিয়ে দিলে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ অনন্থুর (১-১)। ৭২ মিনিটে ফের গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। এক্ষেত্রে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শট ক্রসপিসে প্রতিহত হয়। বিজয়ের মাইনাসে সহজ সুযোগ নষ্ট সঞ্জীবেরও। দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টিভেজা মাঠে একটা সময় বেশ উত্তেজনা তৈরি হয়। ভবানীপুরের এক সাপোর্ট স্টাফ লাল কার্ড দেখার পরেও ফেনসিংয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের। দ্রুত অবস্থা সামলায় পুলিশ। এটুকু বাদে ম্যাচ ম্যাড়ম্যাড়ে। ইলিয়াশ পাশার জার্সি পরে আসা লাল-হলুদ সমর্থক মশাল জ্বালানোর সুযোগই পেলেন না। ম্যাচ শেষে ভবানীপুর কোচ রঞ্জন চৌধুরি বলেন, ‘লিড নিয়েও জিততে পারলাম না। তবে ছেলেরা যথেষ্ট লড়াকু ফুটবল খেলেছে। আসলে পরপর দুই বড়ো ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলার চাপ নেওয়া সহজ নয়।’
ঘরের মাঠে লিগের ম্যাচ খেলছে ইস্ট বেঙ্গল। কিন্তু রক্তাল্পতায় ভোগা ভারতীয় ফুটবলের মতো প্রেসবক্সের অবস্থাও শোচনীয়। ভাঙাচোরা বেঞ্চ, ফ্যানবিহীন বক্স কভারেজের অযোগ্য। এর
দায়িত্ব পিডব্লুডি’র উপর বর্তায়। কিন্তু আসি যাই মাইনে পাই মার্কা মাননিসকতা তাদের রন্ধ্রে। সেই ঘুম কবে ভাঙবে?
ইস্ট বেঙ্গল: গৌরব, জয়, জোসেফ, চাকু, বিক্রম (সুমন), তন্ময়, অনন্থু, বিজয়, আকাশ (সঞ্জীব), বিলাল (দেবদত্ত) ও মনোতোষ।