পিনাকী ধোলে পুরুলিয়া
পিনাকী ধোলে পুরুলিয়া
অবশেষে বিপুল খরচে রাশ টানতে উদ্যোগী হল পুরুলিয়া পুরসভা। সূত্রের খবর, এমনিতেই পুরসভার আয়ের থেকে ব্যায় বেশি। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের পিছনেই আয়ের সিংহভাগটাই বেরিয়ে যায়। কারণ হিসেবে অভিযোগ, কাউন্সিলার থেকে শুরু করে আধিকারিকরা ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটান পুরসভার গাড়িতেই। দলের কাজকর্ম, একুশে জুলাইয়ের সভায় যাওয়ার জন্যও শাসক দলের কাউন্সিলাররা পুরসভা থেকে জ্বালানির স্লিপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ! সম্প্রতি, পুরপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন মহকুমা শাসক উৎপল ঘোষ। সেখানে পুরসভার বিপুল খরচে রাশ টানার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালিও মানছেন, পুরসভার আয়ের থেকে ব্যয় বেশি হয়ে যাচ্ছে। পুরকর্মীদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পুরসভায় বিপুল খরচে রাশ টানতে এবার উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। নব্যেন্দুবাবু বলছেন, ‘জ্বালানি তেল, কাউন্সিলারদের ভাতা সহ যে সব খাতে বিপুল খরচ হচ্ছিল, সেইসব খাতে খরচ কমিয়ে পুরসভার তহবিল কীভাবে বাড়ানো যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি।’
জানা গিয়েছে, পুরসভার সঙ্গে শহরের দুটি পেট্রোল পাম্পের চুক্তি রয়েছে। সেই পাম্প থেকেই পুরসভার যাবতীয় গাড়ির তেল ভরা হয়। তেলের স্লিপ ইস্যু করেন পুরসভার অফিস সুপারিনটেনডেন্ট। চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে সেখান থেকেই তেলের রশিদ মেলে। তারপর সেই রশিদ পাম্পে দেখালে তেল দেওয়া হয়। মাসের শেষে পুরসভার তহবিল থেকে বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, জ্বালানি তেল বাবদ গত মে মাসে পুরসভার খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা। জুন মাসে প্রায় ৮ লক্ষ ১৮ হাজার, জুলাই মাসে প্রায় ১০ লক্ষ ৩৮ হাজার এবং আগস্ট মাসে প্রায় ৮ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জুলাই মাসে এত বিপুল খরচ কেন? পুরসভার এক কর্তা বলেন, ২১ জুলাই ধর্মতলায় সভা ছিল। সেই সভায় যাওয়ার নাম করে পুরপ্রতিনিধিদের অনেকেই তেলের স্লিপ নিয়েছেন। যদিও দলীয় সূত্রের খবর, পুর প্রতিনিধিদের অধিকাংশই ধর্মতলা গিয়েছিলেন ট্রেনে। পুরসভার অন্য একটি সূত্রের দাবি, বহু কাউন্সিলার পুরসভার তেলের টাকায় ব্যক্তিগত কাজ মেটান। কারও চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হলে কিংবা কারও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এয়ারপোর্টে যেতে হলেও পুরসভার গাড়ি ব্যবহার করেন। এক মহিলা প্রতিনিধির শুধু শহর ঘুরে বেড়াতে মাসে ৮০ লিটারের বেশি তেল লাগে। বিরোধীদের অভিযোগ, পুর প্রতিনিধিরা তেলের স্লিপ নিলেও সেই তেল বিক্রি করে টাকা পকেটে ঢোকান। কাউন্সিলারদের দেখাদেখি আধিকারিকরাও নানা প্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহারের নামে তেলের স্লিপ নেন বলে অভিযোগ। পুরসভার বিভিন্ন কাজে তাঁদের প্রায়শই কলকাতা যেতে হয়। যাওয়ার কথা ট্রেনে কিংবা বাসে! এখন নাকি তাঁরা এসি গাড়ি ছাড়া কলকাতা যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবার তেলের খরচ পুরোপুরি কমিয়ে ফেলা হবে।’ কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের শহর সভাপতি প্রদীপ ডাগা বলেন, ‘পুরসভার ব্যায় কমিয়ে আয় কিভাবে বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারে চেয়ারম্যানকে পরামর্শ দিয়েছি। মহকুমা শাসককেও নানা প্রস্তাব দিয়েছি।’