ওয়াশিংটন, ১০ জানুয়ারি: সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতা বদলের পাশাপাশি সেদেশের অপরিশোধিত তেলের নিয়ন্ত্রণও এখন আমেরিকার হাতে। ভারতকে কি ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করা হবে? এই বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে প্রস্তুত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তবে তা হবে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন সরকারের মর্জি মাফিক। তাদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে। হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষস্থানীয় আধিকাকের বক্তব্য, ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবহারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সেই আয় যেন সরাসরি ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হয়, সেটা দেখাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, আমেরিকা চায় না এই অর্থ দুর্নীতি বা ভেনেজুয়েলার বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যয় হোক। ভারতের সাথে ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্যের শর্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস্টোফার রাইটের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ইঙ্গিত করেন ওই আধিকারিক। যিনি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন প্রায় সব দেশকেই ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির জন্য প্রস্তুত।
একসময় ভেনেজুয়েলার থেকে তেল কেনা দেশগুলির মধ্যে ভারত ছিল প্রথম সারিতে। তাই ভারতের একাধিক রিফাইনারি ভেনেজুয়েলার ভারী ক্রুড ওয়েল পরিশোধনে সক্ষম। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এবার আমেরিকা যদি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে এই তেল নিয়ে বাণিজ্যের অনুমতি দেয়, তাহলে তা ভারতের শক্তি নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কড়া নজর রাখা হবে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবে মার্কিন প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব স্রেফ বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কূটনৈতিক হিসাব। একদিকে ভেনেজুয়েলার উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে আমেরিকা, অন্যদিকে তেলের জন্য রাশিয়ার উপর ভারতের নির্ভরশীলতা পাকাপাকিভাবে কমাতে চাইছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার তেল ভারতে বিক্রি করা গেলে দুই ক্ষেত্রই বজায় থাকবে মার্কিন প্রশাসনের, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।