ওয়াশিংটন: মিডটার্ম নির্বাচনের ঠিক আগে ফের ইরানে হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী। ‘গোপনে’ নিশানা বানানো হয়েছে হরমুজ প্রণালীর বৃহত্তম দ্বীপ কেশমে। ঘটনাচক্রে, ইরানে ফের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য আমেরিকার উপর চাপ বাড়িয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি ছিল, মিডটার্ম নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের ইরানকে টার্গেট করা হোক। যদিও আমেরিকায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই কেশম দ্বীপে হামলা চলল। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সীমিত পরিসরে মূলত আত্মরক্ষার্থে কেশম দ্বীপকে নিশানা বানানো হয়েছে। এই হামলার কখা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ওরা একটা বিমান বিধ্বংসী কেন্দ্র তৈরি করেছিল। নির্মাণ কাজ শেষ হতেই গতরাতে সেখানে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরান যাতে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে টার্গেট করার অবাধ জমি পেয়ে না যায়, সেজন্যই এই হামলা। নতুন করে বড়ো কোনো সামরিক অভিযান শুরু করা হয়নি। তবে মার্কিন আধিকারিকরা যাই বলুন, কেশমে এই হামলার পরই অশোধিত তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ১.৬ ডলার (১.৬৬ শতাংশ) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ৯৮.০৬ ডলারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলে ১.৮৪ ডলার (১.৭৬ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়ে ১০৬.৬১ ডলার হয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার ইরানের দাবি, দেশের দক্ষিণাংশে বন্দর খামির এলাকায় দু’টি মার্কিন লুকাস ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। আইআরজিসি-র এয়ার ডিফেন্স ইউনিট ওই দুই মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করে দিয়েছে।
কেশম দ্বীপে রয়েছে ইরানের একটি বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল কেন্দ্র, নৌসেনার ঘাঁটি ও লবণাক্ত জল পরিশোধন প্ল্যান্ট। এই দ্বীপে ‘গোপনে’ হামলা চালানোর খবর প্রথম প্রকাশ করেছে আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হামলাকে ফের বড়ো সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত বলা যাবে না। সেই কারণেই আমেরিকা এনিয়ে প্রকাশ্যে কিছু ঘোষণা করেনি। এদিকে, ইরানের সংবাদ মাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, খুব কম সময়ের ব্যবধানে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ওই দ্বীপের কয়েকজন বাসিন্দা দু’টি বিমানকে আকাশে উড়তে দেখেছেন।
নেতানিয়াহু চাপ বাড়ালেও ফের সামরিক অভিযান শুরু নিয়ে মিডটার্ম নির্বাচনের প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কিছুটা রক্ষণাত্মকই দেখিয়েছে। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে আমরা জিতে গিয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন। কারণ বিগত বেশ কয়েক মাস আমরা কোনো রকম লড়াইয়ে জড়াইনি। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়েও আশাপ্রকাশ করেন ট্রাম্প।



