ওয়াশিংটন: নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে লাগাতার আঘাত-প্রত্যাঘাত চলছে। সোমবার ছিল দ্বিতীয় দফার মার্কিন আক্রমণের নবম দিন। হামলা চলাকালীনই অবশ্য শান্তি-আলোচনার রাস্তা খোলা রেখেছে দুই দেশই। এদিন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, ‘কূটনৈতিক পথে আলোচনা শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মত বিনিময় চলছে।’ মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এই কূটনৈতিক আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। রুবিও বলেন, ‘আমরা সবসময় আলোচনার পক্ষে। এই পথেই সমাধান আসবে।’ আর এই আলোচনা শুরুর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। কমতে শুরু করেছে তেলের দাম। ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফার যুদ্ধ শুরুর পর ব্যারেল প্রতি অশোধিত তেলের দাম ৯১ ডলারে পৌঁছেছিল। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে হয়েছে ৮৯ ডলার।
এদিন মার্কিন হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের মিলিটারি কমান্ড সেন্টার, এয়ার ডিফেন্স এবং উপকূল নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছে, ‘ইরানের উপর নিয়ন্ত্রিত হামলা চালানো হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক এবং হরমুজ প্রণালীতে আক্রমণের জন্য মোতায়েন ইরানি অস্ত্র নেটওয়ার্কে হামলা করা হয়েছে।’ তবে ঠিক কোন কোন জায়গায় হামলা করা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি মার্কিন সেনা। এদিকে নির্মীয়মাণ ডার্কোভিন পরমাণু কেন্দ্রে হামলার জন্য আমেরিকার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব চেয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দ্বারস্থ হয়েছে তেহরান। এ প্রসঙ্গে ইসমাইল বাঘেই বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহারের জন্য এই পরমাণু কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছিল।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর অধিকার নিয়ে অনড় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, দু’টি তৈলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন মদতেই সেগুলি হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিক দিয়ে পার হচ্ছিল। আইআরজিসির হুঁশিয়ারি— ‘সামান্যতম রাসায়নিক সার, তেল এবং গ্যাস নিয়ে যাওয়ার জন্য এই জলপথ উপযুক্ত নয়। যতদিন মার্কিন হামলা চলবে, ততদিন এই প্রণালী অরক্ষিত থাকবে।’